১৮ দলের কর্মসূচীতে স্বস্তিতে পুঁজিবাজার

ডিএসই ভবন
ছবি: ফাইল ছবি

dse_decদেশের চলমান রাজনৈতি অস্থিরতার কারণে দিনে দিনে কমছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা। এর প্রভাবও পড়ছে দৈনন্দিন লেনদেনে। লেনদেন একটু বাড়ে তো আবার পিছায়। আর এ নিয়ে প্রতিনিয়োতো দ্বিধা দ্বন্ধে পড়ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কী হবে আগামি দিনের রাজনৈতিক অবস্থা। স্থিতিশীল হবে কী পুঁজিবাজার। তবে গত মঙ্গলবার বিরোধী দলীয় নের্তৃীর কর্মসূচীতে স্বস্তিতে রয়েছেন বিনিয়োগকরী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা।

 

তারা বলছেন, বিরোধী দলীয় নের্তৃীর সংবাদ সম্মেলন ঘিরে যে এক ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছিল তা অবসান হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আসন্ন দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে পুঁজিবাজারে এর লেনদেন একটু বাড়ে তো আবার পিছায়। তবে এই অবস্থা আরও চরমে দাঁড়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গতকাল মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে।

গত রোববার বিএনপি নেত্রীর ওই সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণাকে ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিএনপি ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের মতো কর্মসূচি দিতে পারে এমন সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পরই সকল বিনিয়োগকারীর মধ্যে দ্বিধা দেখা দেয়। তবে খালেদার জিয়া তার সংবাদ সম্মেলনে তেমন সহিংস কোনো কর্মসূচি না দেওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

আইআইডিএফসির সিকিরিউটিজের বিনিয়োগকারী আলমগীর হোসোন অর্থসূচককে বলেন, আগের দুই তিন দিন বেশ উৎকণ্ঠায় কেটেছে। তবে বিএনপি নেত্রী শেষ পর্যন্ত তেমন কঠোর কোনো কর্মসূচি না দেওয়ায় আপাতত দেশে কিছুটা শান্তি ফিরেছে।

তিনি বলেন, এই কারণে এখন বিনিয়োগ করতেও আমাদের দ্বিধা কেটে গেছে।

ডেল্টা ক্যাপিটালের বিনিয়োগকারী হাসান আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশে রাজনৈতিক এই সাময়িক সুস্থিরতা আগামি কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাবে। আর এর ফলে বাজারে আবার স্বাভাবিকতা ফিরবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে এ বিষয়ে বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ কর্মকর্তারা বলছেন, যতোদিন না দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসে ততোদিন বাজারের প্রতিও আস্থা ফিরবে না বিনিয়োগকারীদের। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে আস্থা ফেরানোর বিকল্প দেখছেন না তারা।

তারা মনে বলছেন, যদি দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে তাহলেই বাজারে বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এছাড়া অন্যকোনো পথ খোলা নেই বলে মতদেন তারা।

 

মার্চেন্ট ব্যাংকারদের বক্তব্য: বাজারের এই অবস্থা সম্পর্কে এনবিএল ক্যাপিটাল ইকোইটি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার অর্থসূচককে বলেন, এই বাজারে সাধারণ বিনিয়োগ করে আস্থার উপর ভর করে। আর এখন প্রতিমহুর্তে দেশের দৃশ্য পরিবর্তন হচ্ছে। কখন কি হয় বলা যচ্ছে না। দ্বিধা দ্বন্ধে আছে সাধারণ মানুষসহ সবাই।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়লেই বাজারে তাদের অংশ গ্রহণ বাড়বে বলে মতদেন তিনি।

পিএলএফএস ইন্ভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বহী কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল একই বিষয়ে মতদেন।

তিনি বলেন, যতোদিন নির্বাচন শেষ হচ্ছে না,ততোদিন বাজার সম্পর্কে কিছু বলা দুস্কর। তবে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও রাজনৈতিক অঙ্গনের এই সাময়িক অস্থিরতা হ্রাস বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি আনবে।

সিকিউরিটিজ হাউজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বাজারের এ অবস্থা সম্পর্কে এসবিসি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দল মতিন অর্থসূচককে বলেন, বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হাড়িয়ে ফেলেছে। একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরানো কঠিন। তবে যদি প্রধান দুই দলের মাঝে একটি সমঝোতা হয় তাহলে বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারমূখী হবেন। আর সমঝোতা না হলে বিনিয়োগকারীরা বাজার বিমূখ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ট্টাস্ট ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা এসএম আমিন-উর- রহমান শাওন অর্থসূচককে বলেন, একমাত্র রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

তিনি বলেন, এখন আর ভয়ের কারণ নেই। বিনিয়োগকারীরাসহ সবাই ভাবছিলো ১৮ দলীয় জোট নের্তৃী কী কর্মসুচী দেয়। এ কারণে কয়েকদিন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কম দেখাগেছে। গতকাল বড় ধরনের কোনো কর্মসূচী না দেওয়ায় ভয়টা একটু কমেছে। সামনে কিন্তু আরও দিন আছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে দুই দলই জনগনের স্বার্থে একটি পথ বেছে নিবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

চলতি সপ্তাহের বাজার

চলতি সপ্তাহে তিন দিনের দুই দিনই লেনদেন ও সূচক উভয় কমেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল সাতশ ১০ কোটি টাকা ও সূচক বেড়েছিল ৪৪ পয়েন্ট। একদিন পরেই সূচক কমেছে ২৩ পয়েন্ট। আর লেনদেন কমেছে ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ বা দুইশ ৫৩ কোটি টাকা। আর রোববারের তুলনায় মঙ্গলবার লেনদেন কমে ৪৭ দশমিক ২৭ শতাংশ বা  তিনশ ৩৫ কোটি টাকা।

জিইউ