পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার ৩০ শতাংশ

Taka
টাকা- ফাইল ছবি

Takaএক লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকার বিশাল লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে ২০১৩-১৪ অর্থবছর শুরু করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের অচলাবস্থায় রাজস্ব আদায়ে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। বছরের প্রথম পাঁচ মাস শেষ হলে হয়ে গেলেও আদায় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩০ শতাংশ। সাত মাস বাকী থাকলেও নভেম্বর মাসেই ২ হাজার ২১১ কোটি টাকা ঘাটতি থাকায় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান থাকায় শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।

এনবিআর সূত্র জানায়,চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৪৬ হাজার ৯২৪ কোটি  টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে  রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। যেখানে ঘাটতি রয়েছে ৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। আর নভেম্বর মাসে ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২ হাজার ২১১ কোটি টাকা কম। আর পাঁচ মাস শেষে  এ আদায়ের পরিমাণ মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৯.৫৯ শতাংশ।আর আদায়ের প্রবৃদ্ধিও অনেক কমে ১০ শতাংশের নিচে চলে এসেছে।

এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৩ হাজার ১১৯ দশমিক ৬৮ কোটি টাকা ঘাটতি ছিলো। আর নভেম্বর পর্যন্ত তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে  প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ায় প্রথম চার  মাসের তুলনায় নভেম্বরে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

২০১৩-১৪ অর্থ বছরের সাত মাস বাকী থাকলেও নভেম্বর মাসের আদায়ের হার এবং দেশের রাজনৈতিক সংকট বিরাজমান থাকায় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়বেনা বলেই মনে করেন এনবিআরের কর্মকর্তারা। আর ডিসেম্বরে এ ঘাটতি আরও অনেকাংশে বাড়বে বলেও মনে করেন তারা। রাজনৈতিক অচলাবস্থায় রাজস্ব আদায়ে কালো মেঘের ছায়া পড়েছে। ফলে চলতি অর্থবছর শেষে বড় ধরনের ঘাটতির দিকেই যাচ্ছে এনবিআর।

এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থাকলেও প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় বেশি।চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে উঠলে ও ব্যবসার সুষ্ঠ পরিবেশ সৃষ্টি হলে বছর শেষে বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সম্ভবনা থাকলেও কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাস (জুলা্ই-নভেম্বর) সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে এখানে ১৭ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার বিপরীতে ১৫ হাজার ৮২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। যাতে ঘাটতি ২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।

ঘাটতির দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে শুল্ক বা আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ের কর। এখানে ১৭ হাজার ১১২ কোটি টাকার বিপরীতে ১৫ হাজার ৩০৩ কোটি আদায় হয়েছে। আর এ খাতে ঘাটতি ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ উৎস মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট থেকে কিছুটা কম হলেও এ খাতে ১ হাজার ২২ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। এ খাতে ১৪ হাজার ৩০৩ কোটির বিপরীতে ১৩ হাজার ২৮১ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। আর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সবচেয়ে কম আদায় হওয়া অন্যান্য খাতে ৪১৭ কোটি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ২৪৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫৮ শতাংশ।
এনবিআর সূত্র বলেছে, কয়েক বছর ধরে আয়কর বা প্রত্যক্ষ কর খাতে শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে। এর বিরূপ প্রভাবে রাজস্ব ঘাটতি বেড়েছে। এ ছাড়া চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় জনশক্তি রফতানিতে ব্যাপক ধস নেমেছে। এর বিরূপ প্রভাবে কমে গেছে ভ্রমণকর আদায়। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে।
এদিকে, টানা অবরোধ ও হরতালে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনে লাখ লাখ পণ্যভর্তি কনটেইনার আটকে পড়েছে। তাই ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পণ্য খালাস করতে ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার সব বন্দর খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।