চাহিদার শীর্ষে ‘ফ্লোর টাচ’
শনিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ঈদ ফ্যাশান

চাহিদার শীর্ষে ‘ফ্লোর টাচ’

floor_touchএকটা সময় ছিলো, যখন নারীর ফ্যাশনের তালিকায় থাকতো ঢিলে-ঢালা ও লম্বা সালোয়ার কামিজ। গত কয়েক বছরে তাদের ফ্যাশনের তালিকায় ছিল খাটো ও টাইট ফিটিংসের পোশাক। তবে ব্যতিক্রম ঘটছে এবারের ঈদে। ঘাড় থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত লম্বা কামিজ বা ‘ফ্লোর টাচ’ এবারের ঈদে তরুণীদের চাহিদার শীর্ষে অবস্থান করছে। বিভিন্ন বয়সের মহিলারাও মেতেছেন এ পোশাকের রঙে।

ঈদ কেনাকাটা করতে মার্কেট, বিপণিবিতান ও শপিংমলগুলোতে এখন তরুণীদের উপচেপড়া ভিড়। কেউ আসছেন পরিবারের সঙ্গে। কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে। আবার কেউ স্বামীর সঙ্গে কেনাকাটা করছেন। দোকানে দোকানে ঘুরে ফিরে কিনছেন নিজের পছন্দসই পোশাক।

রাজধানীর প্রায় সবগুলো বিপণিবিতানে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা নারীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ফ্লোর টাচ নামক লম্বা পোশাক।

বসুন্ধরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, এবার মেয়েদের জন্য লম্বা ও ঘের দেওয়া সালোয়ার-কামিজ চলছে বেশি। পোশাকে আনারকলি কাট থাকলেও তা মাটি পর্যন্ত স্পর্শ করায় বিক্রেতারা এর নাম দিয়েছেন ‘ফ্লোর টাচ’। এর কোনোটাকে বলা হচ্ছে ‘পাখি’, কোনোটার নাম ‘রাম-লীলা’।

আবার মধুরমা, তেরেঙ্গা, মনের খুশি, ফড়িংও রয়েছে। তবে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসার একটি সিরিয়ালের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নামে রাখা ‘পাখি’ নামক একটি থ্রি-পিসটি চলছে সবচেয়ে বেশি।

এ থ্রি-পিসটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এগুলো এক ছাঁট কিংবা ছয় ছাঁটের হয়ে থাকে। সাধারণত সুতি, টেট্রন, ভেলভেট, নেট, জর্জেট, হাফ সিল্ক, শিফন, কাতানসহ বিভিন্ন কাপড়ে ‘পাখি’ তৈরি করা হয়। এর দাম দেড় হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা।

Floor Touch

বসুন্ধরা সিটির একটি দোকানের শো-তে ফ্লোর টাচ। ছবি: মহুবার রহমান

ফ্লোর টাচের বিভিন্ন ডিজাইন রয়েছে বসুন্ধরার তৃতীয় তলাসহ গাউছিয়া, নিউমার্কেটসহ বড় বড় বিপণিবিতানগুলোতে। নেট ও জর্জেটে তৈরি হওয়া এ পোশাকগুলোর দাম ৮ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ পোশাকগুলোতে থাকছে স্টোন, পুঁতির ভারি কাজ। থাকছে কটন, জর্জেট, নেট, এ্যান্ডি সিল্কসহ বিভিন্ন কাপড়ে তৈরি হওয়া এসব ফ্লোর টাচ।

বসুন্ধরা সিটির তৃতীয় তলার ‘নেক্সট ইন্ডিয়া কালেকশনের’ কর্ণধার শফিক রহমান অর্থসূচককে জানান, এবার ঈদে ক্রেতাদের ‘ফ্লোর টাচের’ প্রতি আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। এ পোশাকগুলো ভারত থেকে আনা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের কিছু পোশাকও রয়েছে। কাপড়ের মান ও ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে এগুলোর দাম ১০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলে জানান তিনি।

ঈদের কেনাকাটর করতে বান্ধবীদের সাথে বসুন্ধরা সিটিতে এসেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া আনজুম। তিনি ও তার বান্ধবীরা কিনেছেন ফ্লোর টাচ নামের সালোয়ার-কামিজ। তিনি জানান, আধুনিক ডিজাইন ও ফ্যাশনে নিজেকে সঙ্গী করতেই এই পোশাক কিনেছি।

এবারের ঈদে মেয়েদের ফ্লোর টাচ, পাখি, বোম্বে গাউনের পাশাপাশি কিশোরী ও ছোট মেয়েদের সালোয়ার-কামিজও বিক্রি হচ্ছে। এ গুলোর মধ্যে আছে সুতির তৈরি ‘খোয়াব’ দাম ৩-৬ হাজার টাকা। শিফন কাপড়ের তৈরি ‘সোয়াগাত’ ৬-৯ হাজার টাকা। সিল্কের তৈরি ‘রাগা’ ৩-৬ হাজার টাকা। ‘সান ক্লোটি’ ৫-৬ হাজার টাকা। ‘কারিনা’ ৫ হাজার টাকা। ‘এলিগেন্ট’ ৪ হাজার টাকা। আরও আছে ‘রাধিকা’, ‘সারারা’ ইত্যাদি নামের পোশাক। এর পাশাপাশি এবার সুতি, শিফন ও জর্জেট কাপড়ে তৈরি পাকিস্তানি লন থ্রি-পিসও ভাল বিক্রি হচ্ছে। একরঙের সিঙ্গেল কামিজও ভালো বিক্রি হচ্ছে।বসুন্ধরা সিটির তৃতীয় তলায় কথা হয় নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারহানা জেরিনের সাথে। তিনি অর্থসূচককে জানান, ঈদে ব্যতিক্রমী পোশাকের দিকে আগ্রহ থাকে মেয়েদের। সাধারণত সালোয়ার-কামিজের ব্যবহার বেশি হলেও ঈদের জন্য নতুন ডিজাইনের পোশাক কিনতেই হয়। এবার নতুন ডিজাইনের ‘ফ্লোর টাচ’ বেশ ভালো লাগছে।

একই রকম চিত্র দেখা যায়, নগরীর গাউছিয়া, চাঁদনী চক, মৌঁচাক, নিউমার্কেটসহ প্রায় সবগুলো মার্কেটে। নতুন ডিজাইনের পোশাক ফ্লোর টাচ ও পাখির চাহিদার পাশাপাশি সুতির ভালো মানের থি-পিছ, সালোয়ার কামিজ কিনছেন তরুণীরা।

এসএম/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ