এত কাছে তবু কত দূর…

Father

Father‘সেই কৈশোর থেকে আমি আমার জন্মদাতা পিতাকে হন্যে হয়ে খুঁজছি। কিন্তু  আমরা দু’জন যে এতো কাছে ছিলাম, একই জায়গায় কাজ করতাম-তা আমি জানতাম না।’

অ্যামি রবার্টসন যখন কথা বলছিল, তখন তার দু’চোখ ছলছল করছিল জলে। বুকের নদীতে তখন  উথাল-পাতাল ঢেও।বাইরে থেকে বোঝার সাধ্য কার।

জীবন যে কখনো কখনো নাটকের চেয়েও নাটকীয়, সিনেমার চেয়েও অবিশ্বাস্য ঘটনাবলীএত পূর্ণ হতে পারে মাঝে মধ্যেই তার প্রমাণ মেলে। অ্যামি রবার্টসনের জীবনগাঁথা এমনই নাটকীয়তায় পূর্ণ আর বিষাদে ভারাক্রান্ত। মেক্সিকান মা আর আফ্রিকান পিতার সন্তান অ্যামি বড় হয়েছে পালক বাবা-মায়ের কাছে, যারা আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ। কৈশোরে প্রথম যখন বুঝতে পারে,যারা তাকে সন্তানের মত লালন-পালন করছেন, তারা তার প্রকৃত বাবা-মা নন। তখন থেকেই শুরু হয় জন্মদাতা পিতা ও মায়ের সন্ধান। দীর্ প্রতীক্ষা আর সন্ধানের পর ২৩ বছর বয়সে চলতি বছরের প্রথমভাগে সে খুঁজে পায় সেই আরাধ্য পিতা-মাতাকে। ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের।

২৩ বছর বয়সী অ্যামি রবার্টসন বলছিল, আমি যখন অনেক ছোট,শৈশব পার করে কৈশোরে পা দিচ্ছি-তখনই আমার মনে প্রথম প্রশ্নটা দানা বাঁধে। আমার গায়ের রং এমন কালচে কেন, কেনো বাবা-মায়ের মতো সাদা নয়।কৌতুহল আমি লুকিয়েও রাখিনি।আমার মাকে জিজ্ঞেস করেছি। প্রথম প্রথম মা তাতে সাড়া দেয়নি। কোনো উত্তর না দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিয়েছে আমার কপোল ও কপাল। বলেছে,‘মা রে, আমরা তোকে অনেক ভালবাসি’।

পালক বাবা-মায়ের ভালবাসা নিয়ে আমার ন্যূনতম কোনো সন্দেহ ছিল না আমার। তারা আপন সন্তানের মতোই পরম মমতা আর যত্নে আমাকে বড় করেছেন। কিন্তু তবুও মাথা থেকে জন্মদাতা পিতা-মাতার বিষয়টি যাচ্ছিল না। কে আমার জন্মদাতা, কেনো তারা আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন, কিভাবে আমি এদের কাছে এলাম-সে কৌতুহল আমাকে পাগলের মতো তাড়া করে ফিরছিল। ভেতরে ভেতরে তাদের জন্য বিশেষ একটা টানও অনুভব করছিলাম আমি। শয়নে স্বপনে দেখছিলাম তাদের কল্পিত মুখচ্ছবি। সারাক্ষণ ইচ্ছে করতো তাদের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ি। কিন্তু হায়! ইচ্ছা করলেই কি সব পাওয়া যায়।

আমার পীড়াপীড়িতে এক সময় মুখ খোলেন মা। স্বীকার করেন,আমি তার পেটের সন্তান নই। আর আমার বর্তমান পিতার ঔরসেও জন্ম হয়নি আমার। তারা মিশ্র এক দম্পতির কাছ থেকে আমাকে দত্তক নিয়েছেন। তখন আমার বয়স মাত্র ১৮ মাস। তাদের কোনো সন্তান না থাকায় তারা আমাকে দত্তক নিয়েছেন। তাদের এক বন্ধুর বন্ধু আমাকে সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন।

তখন থেকেই বুকের ভেতরে প্রত্যয় দানা বাঁধে, আমার প্রকৃত মা আর বাবাকে খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু কোনোভাবেই অগ্রসর হতে পারছিলাম না। বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে খুঁজতে হবে। এর মধ্যে পড়াশোনার চাপে বিষয়টা একটু চাপা পড়ে যায়। কিন্তু বুকের ভেতরের কান্না থামে না। হয়ত এ বিষাদ ভুলে থাকতেই ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করে ফেলি। পর পর দুটি শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু এমন বিষন্ন নারীর সঙ্গে ঘর করবে কেনো একজন পুরুষ। তাই হয়তো ছাড়াছাড়িটাও হয়ে যায় দ্রুত। আমার বিষন্নতা আরও বেড়ে যায়।

গত বছরের জানুয়ারিতে আমি ফিনিক্স ড্রপ ইন সেন্টার নামে পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্বেচ্ছাশ্রম শুরু করি। সপ্তাহে দু’দিন সময় দেই সেখানে। সেন্টারটিতে মাদকাসক্ত ও গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়। আমি কেন্দ্রের রান্নাঘরে কাজ করতাম। কিছু অসহায় মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে আমি খুব তৃপ্তি পেতাম।

গত বছরের এপ্রিলে হঠাৎ একদিন আমার পালক মা জানান,তিনি আমাকে দত্তক নেওয়ার চুক্তিপত্রটি খুঁজে পেয়েছেন। আমার খালা তার বোনের হয়ে আমাকে দত্তক দিয়েছিল। তিনি আমার মায়ের সৎ বোন হলেও তার কাছে হয়তো মায়ের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। আমার বুকের ভেতর হঠাৎ হাজারটা আলোক শিখা জ্বলে উঠল। আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল মুখ। তখনো নিশ্চিত নয়, আমরা তাদের খুঁজে পাব কি-না। কিন্তু তবুও, তবুও আমার এত ভাল লাগছিল, উত্তেজনায়-শিহরনে আমি কাঁপছিলাম।

মায়ের দেওয়া তথ্য অনুসারে,কোনো ফোন না করেই পরদিন গিয়ে হাজির হলাম খালার বাড়িতে। বেল বাজানোর পর দরজা খুলে বের হয়ে এলেন একজন নারী-আমার মতো গায়ের রং তার, যেনো তিনিই আমার মা।

 

 

 

 

 

 

কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে বললাম, আমি অ্যানি, আমি আমার জন্মদাত্রী মায়ের খোঁজে এসেছি। এ কথায় তিনি বেশ হোঁচট খেলেন। অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে দু’দিকে মাথা নাড়ালেন। যেন বলতে চাইলেন, না, কোনো উপায় নেই।

আমি রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছি। বুকের মধ্যে কেমন ভারি একটা পাথর চেপে বসছে। কিন্তু সে মাত্র কয়েক মুহূর্র জন্য। একটু পরই তিনি মুখ খুললেন,ভেতরে এসো। কিন্তু ভেতরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় না থেকে তিনিই ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর আমার কাঁধে মাথা রেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন।

 

কিছুক্ষণের মধ্যে কান্নার গমক কমে এল। আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি আমার পরিবার সম্পর্কে কিছু জানো? আমার গর্বধারিনী মা কোথায় থাকে? কেনো সে আমাকে ত্যাগ করলো? এক নিঃশ্বাসে অনেক কথা বলে আমি যেনো একটু হাঁপিয়ে গেলাম।

তার ঠোঁটে ম্লান হাসির রেখা। তিনি অনুচ্চ স্বরে বললেন, আমি এখন আর তোমার মায়ের ততটা ঘনিষ্ট নই। তার খবর খুব একটা জানি না। তবে তার ফোন নাম্বার দিতে পারবো।

তিনি বললেন, তুমি যখন জন্ম নাও, তখন তোমার মায়ের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তোমাকে লালন-পালন করার মতো সঙ্গতি তার ছিল না। তাই দত্তক দিতে বাধ্য হয়েছেন।

আমি আমার মায়ের সঙ্গে গোপনে একাকী কথা বলতে চেয়েছি। যেনো আমার আবেগঘন মুহুর্ত কারো চোখে না পড়ে। তাই খালার কাছ থেকে দ্রুত বিদায় নিয়ে বাইরে এলাম। রাস্তার ওপারে এসে মায়ের ফোনে ডায়াল করলাম। উত্তেজনায় আমার হাত তখন কাঁপছে। ফোনটা হাত থেকে পড়ে যেতে পারে।

 

 

 

 

 

ফোনের ওপাস থেকে একজন নারীর কণ্ঠ ভেসে এলো-হ্যালো।

আর কিছু শোনার তর সইছিল না আমার। আমি ব্যাগ্র হয়ে উঠলাম-হাই, আমি অ্যামি। তোমার গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তান। যাকে তুমি ২২ বছর আগে পরিত্যাগ করেছো। ফোন নাম্বারটা তোমার বোনের কাছ থেকে পেয়েছি।

 

আশ্চর্য আমার কথায় কোনো উত্তর নেই। ফোনের ওপাশে একটা অদ্ভূত নিরবতা।

একটু পর নিরবতা ভাঙ্গল। সরব হল ফোনটি-অ্যামি? আমি এটা বিশ্বাস করি না।

 

ভেঙ্গে না পড়ে আমি কথা চালিয়ে গেলাম। জানতে চাইলাম তিনি কেমন আছেন,কোথায় থাকেন, আমার জন্মদাতা পিতা কোথায় আছেন? হড়বড় করে কথা বলছি আমি।

ফোনের ওপাশে আবার তিনি সরব হলেন। এবার তাকে কেমন যেনো একটু আনন্দিত মনে হল। তিনি বললেন, আমি তোমাকে সব বলব। তবে ফোনে নয়। সামনাসামনি।

আমরা পরদিন সাক্ষাতের সময় ঠিক করলাম। বিপুল আনন্দ নিয়ে আমি বাসায় ফিরলাম। হ্যাঁ, এমন একটা সময়ের জন্যই তো আমি দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছি। দেখা হলে কি কি কথা বলবো আমি মনে মনে তাও ভাবতে শুরু করলাম। আমার ভেতরে তখন দ্বৈত সত্ত্বা। আমিই আমার মা বনে গেলাম। তারপর অবচেতনে আমার এই দুই সত্ত্বার মধ্যে শুরু হল সংলাপ বিনিময়।

সব মিলিয়ে হয়তো আমাকে একটু উদভ্রান্ত দেখাচ্ছিল। আমার পালক মায়ের নজর এড়াল না তা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ঠিক আছো তো?

 

 

 

 

 

 

পরদিন সকালে আমি আমার মায়ের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হলাম। মা আমাকে দেখে এগিয়ে এলেন। জড়িয়ে ধরে পিঠে চাপড় দিলেন। কিন্তু আমি যতটা উত্তেজিত ছিলাম, তিনি ছিলেন ততটাই শীতল। আগেরদিন বিকাল, সন্ধ্যা,রাত-আমি কল্পনায় যা যা ভেবেছি সব, সব যেন ধুলায় মিশে গেল। তিনি অনেকটা যান্ত্রিক মানুষের মত কথা শুরু করলেন। এর মধ্যে আমার মায়ের অন্য সন্তানরা কাছে এল। তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আমার বিষয়টি আগে এদের কেউ জানতো না। তাই এদের সবাই দারুণ বিষ্মিত হল। তবে তাই বলে আমাকে স্বাগত জানাতে কোনো দ্বিধা করল না তারা।

মায়ের সঙ্গে এক ঘন্টা কথা হল। আমি কোথায় থাকি, কেমন ছিলাম এতদিন, পড়াশোনা, কাজ, বিয়ে, বাচ্চা-কাচ্চা এসব সম্পর্কে জানতে চাইলেন তিনি।

তিনি বললেন,জন্মের কিছুদিন আগে তোমার বাবা আমাকে ছেড়ে চলে যান। আমার তখন তিনটি বাচ্চা। তাই নতুন আরেকটি বাচ্চার লালন-পালনের সঙ্গতি আমার ছিল না।

কি উত্তর দেওয়া উচিত আমি বুঝতে পারছিলাম না। তবু বিড়বিড় করলাম, আমি বুঝতে পেরেছি। এটা খুবই কঠিন ছিল।

আমি তার কাছে জানতে চাইলাম- বাবাকে খুঁজে পাওয়ার কোনো উপায় আছে কি-না। তিনি জানালেন,এই কোনো উপায় নেই। তবে তিনি চেষ্টা করবেন।

 

মন চাইছিল না। তবু মাকে ছেড়ে আমার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমি আমার পালক বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকি। আমার জন্মদাত্রী মায়ের বাড়ি সেখান থেকে মাত্র এক ঘন্টার পথ। এত কাছেই থাকি, তবুও কতোটা দূর!

 

 

 

 

 

মা’র সঙ্গে দেখা হওয়ার তিন মাস পর তার কাছ থেকে সেই কাঙ্খিত ফোন কলটি পাই। অ্যামি,সম্ভবত তোমার বাবা, এন্ড্রু রাসেলের  খোঁজ পাওয়া যাবে। তার ছেলে প্যাট্রিক তোমার খালার ফেসবুক বন্ধু। তুমি তার সাহায্য নিতে পার।আমি সঙ্গে সঙ্গে খালাকে ফোন দিলাম। তিনি আমাকে প্যাট্রিকের ফেসবুক লিংক দিলেন। আমি বাবার নাম্বার চেয়ে প্যাট্রিককে ম্যাসেজ পাঠালাম। আর সেভাবেই পেয়ে গেলাম জনকের ফোন নাম্বার।

আমি ফোনটা তুলে নিলাম। ডায়াল করলাম স্বর্গের নাম্বারে-হ্যাঁলো, আমি কি প্যাট্রিকের সঙ্গে কথা বলছি?

উত্তর এল একটু ঘুরিয়ে-এটা আমার নামের মধ্যভাগ। অনেক দিন পর কেউ আমাকে এ নামে ডাকল। নামের প্রথম অংশ উইলি। তবে সবাই আমাকে বিল বলে ডাকে।

এসব শোনার সময় আমার নেই। আমি তাড়াতাড়ি বললাম, আমি অ্যামি, তোমার মেয়ে। আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই।

কিন্তু ফোনের ওপাশে কোনো শব্দ নেই। আমার হৃদকম্পন বেড়ে গেল। ভয় ঢুকে গেল মনে। তাহলে কি তিনি আমার সঙ্গে দেখতে চান না।

অধৈর্য হয়ে উঠলাম আমি,প্লিজ কিছু বল। চুপ কেনো।

এবার এন্ড্রু, আমার বাবা সরব বল,তোমার সাথে দেখা হলে ভালই হবে। অনেক দিন আমি এ প্রার্থনা করেছি।

বাবা ফিনিক্সে থাকে। তাই পরদিন সেখানেই একটা রেস্টুরেন্টে দেখা করার পরিকল্পনা করলাম আমরা।

রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই আমি তাকে দেখলাম। আমার অপেক্ষায় বসে আছেন। চিনতে কোনো কষ্টই হল না, কারণ প্যাট্রিকের ফেসবুক ওয়ালে আমি তার অনেক ছবি দেখেছি।

 

 

 

 

 

আমাকে দেখে সে উঠে দাঁড়াল। তারপর বুকে টেনে নিল। জড়িয়ে ধরে রাখল অনেকক্ষণ। তারপর আমরা টেবিলের দু’পাশেপরস্পর মুখোমুখী বসলাম। অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলাম একে অন্যের চোখের দিকে। কিন্তু কোনো কথা বলতে পারলাম না। কোথা থেকে শুরু করা উচিত আমরা দু’জনই যে তখন তা হাতড়ে বেড়াচ্ছি।

হঠাৎ তিনি ওয়াও, ওয়াও বলে আনন্দে চিৎকার করে উঠলেন। প্রায় ২৫ বার তিনি এ শব্দ উচ্চারণ করলেন। তারপর আমার উদ্দেশ্যে বললেন,আমাকে একটু সময় দাও। কি বলা উচিত আমি ভুলে গেছি। এটা আমার জন্য স্বাভাবিক নয়।

ঠিক আছে, ঠিক আছে-বল্লাম আমি। এছাড়া কী-ই-বা বলতে পারি। আমারও যে একই অবস্থা। কি বলা উচিত বুঝতে পারছি না।

খাবার এল। আমরা নিঃশব্দে খাওয়া চালিয়ে যেতে লাগলাম।খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে তিনি হয়তো কথা গুছিয়ে নিচ্ছেন। অনেকক্ষণ পর তিনি মুখ খুললেন,আমার বয়স তখন ২০। প্রচন্ডভাবে মাদক আসক্ত হয়ে পড়েছি। তখন তোমার মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক হয়েছিল। কিন্তু মাদকের জন্য আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আমি আর তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখি নি। তাই তোমার খোঁজও পাইনি।

তবে আমি এখন ভিন্ন মানুষ। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। ২০০৪ সালে আমি মাদক থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আমরা দীর্ঘ সময় কথা বলেছি। কিন্তু তবু গল্প যেন শেষই হচ্ছিল না। হঠাৎ তিনি কথা থামিয়ে বললেন,সরি,আমাকে যেতে হবে। কাজের সময় হয়ে গেছে।

কোথায় যাবে তুমি-আমি জানতে চাইলাম।

 

ফিনিক্স রেসকিউ সেন্টার, তিনি উত্তর দিলেন।

বিষ্ময়ে, উত্তেজনায়  আবার আমার কণ্ঠ রোধ হয়ে গেল। আরে,আমিও তো সেখানেই কাজ করি।

 

এন্ড্রু জানাল,প্রথমে সে রান্না ঘরে কাজ করতো। এখন তাদেরকে শৃঙ্খলার দিকটি দেখাই। আমি জানালাম আমিও সেখানে কাজ করি। আমারও কাজ রান্না ঘরে। জানলাম, বাবা আর আমার শিফটও এক। আমরা একই সময়ে সেন্টারটিতে কাজ করি।

সেন্টারে সারাক্ষণ বাবা আমার পাশেই ছিল। আমি জানতাম না। এতো কাছে থেকেও আমরা কত দূরে ছিলাম!