ঘুম নেই দর্জি পাড়ায়
সোমবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ঈদ ফ্যাশান

ঘুম নেই দর্জি পাড়ায়

প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর টেইলার্সগুলোতে ব্যস্ততা শুরু হয় রমজানের আগেই। তবে এ বছর রমজানের শুরুতে দর্জি দোকানে তেমন ভিড় লক্ষ করা যায়নি। কাজে ছিল ধীর গতি। হতাশ ছিলেন টেইলার্স মালিকরা।

tailor

রাজধানীর গুলিস্তানের গ্রাহকের পোশাকের মাপ নিতে ব্যস্ত এক দর্জি। ছবি-মহুবার রহমান।

কিন্তু ১৫ রোজার পর বদলেছে সেই চিত্র। ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কারিগররা। রাত-দিন কাজ করে সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা; ঘুম নেই দর্জি পাড়ায়।

অন্যান্য বছর এই সময় অর্ডার নেওয়া বন্ধ থাকে। তবে এবার কয়েকটি দোকানে অর্ডার নিতে দেখা গেছে।

টেইলার্স মালিকরা জানান, প্রতি বছর রমজানের শুরুতে দর্জি পাড়ায় অনেক বেশি ভিড় থাকলেও এবার তা অনেক কম ছিল। ফলে কিছু দোকানে এখনও অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। ২১ রমজান পর্যন্ত অর্ডার নেওয়া হবে। চাঁন রাত পর্যন্ত ডেলিভারি দেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, নূর ম্যানশনসহ সব মার্কেটের টেইলার্সের কারিগর, মাস্টার, ম্যানেজার সবাই ব্যস্ত সময় পার করছে। বিভিন্ন এলাকার টেইলার্সগুলোতেও অবসর নেই।

অনেকেই নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বছরের প্রথম দিকের রাজনৈতিক অস্থিরতার ছোঁয়া দোকানগুলোতে এসে লেগেছে বলে অভিযোগ তাদের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা এই বছরের মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। অন্যান্য ব্যবসার পাশাপাশি দর্জি দোকানেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে রোজার শুরুতে কাজের তেমন চাপ ছিল না। এখন ব্যস্ততা বেড়েছে।

তবে এবার ৫ বছর আগের অর্ডারকে অতিক্রম করতে পারেনি জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, আগের বছরগুলোতে শবে-বরাত থেকে অর্ডার নেওয়া বন্ধ থাকলেও এবার এখনও নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীতে নারীদের পোশাক সেলাইয়ের অন্যতম এলাকা নিউ মার্কেট। ধানমণ্ডি, মিরপুর, গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার নারীরা পোশাক সেলাইয়ের অর্ডার দিতে যান সেখানে। এছাড়া গাজীপুর, যশোর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষেরও পছন্দের জায়গা নিউ মার্কেটের টেইলার্সগুলো। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে রাজধানীর বাইরের এসব অর্ডারি পোশাক সরবরাহ করা হয়।

অঞ্জনা লেডিস টেইলার্সের কারিগর আব্দুর রহিম অর্থসূচককে বলেন, রমজানের শুরুতে কাজের তেমন চাপ ছিল না। তবে এখন অনেক চাপ। কারিগর বাড়ানো হয়েছে। এমনকি নাইট শিফটেও কাজ করতে হচ্ছে।

নিউ মার্কেট এলাকার নূর ম্যানশন শপিং সেন্টারের আরজু টেইলার্সের মাস্টার ইব্রাহীম বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসবাসকারীরা তাদের পছন্দের পোশাকের জন্য আমাদের ওপর ভরসা করেন। সব সময় এখানে কাস্টমারের ভিড় থাকে। ঈদ উপলক্ষে এখন আর অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না। তবে বিশেষ পরিচিতদের অর্ডার নেওয়া হচ্ছে; এর পরিমাণ একেবারেই কম।

তিনি জানান, এবার আনারকলি, মাসাক্কালি, কুর্তি, ওয়ানপিস কামিজ, সালোয়ার, শাড়ির ব্লাউজ ও সুতি ব্লাউজ বেশি তৈরি হচ্ছে।

বাকুশা মার্কেটের চায়না টেইলার্সের মাস্টার খোরশেদ আলম বলেন, শুরুর দিকে অর্ডার কম থাকায় এখনো কিছু অর্ডার নেওয়া হচ্ছে।

একই কথা জানালেন বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সানমুন টেইলাইলার্সের ম্যানাজার মো. ইলিয়াছ। তিনি অর্থসূচককে বলেন, পাঁচ বছর আগেও এর চেয়ে বেশি কাজ হয়েছে। এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় কাজ অনেক কম।তাই অর্ডার নেওয়া হচ্ছে।

জিইউ/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ