ছুটির দিনে ক্রেতার ঢল বসুন্ধরায়
সোমবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ঈদ ফ্যাশান

ছুটির দিনে ক্রেতার ঢল বসুন্ধরায়

basundhara-city-crawod-1

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বসুন্ধরা সিটিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়

ছুটির দিনে ঈদের কেনাকাটায় পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন রাজধানীবাসী। নগরীর বিভিন্ন বিপণি বিতানে ক্রেতা দর্শনার্থীর ভিড় থাকলেও এক ছাদের নিচে নামিদামি সব ব্র্যান্ড ও বুটিক হাউসের অবস্থানের কারণে ক্রেতাদের ঢল নেমেছে বসুন্ধরা সিটি মার্কেটে।

শুক্রবার সকাল থেকেই এ মার্কেটের বিভিন্ন তলায় ক্রেতাদের উপছে পড়া ভিড় ছিল লক্ষ্যনীয়। ঈদের মাত্র ১০ দিন বাকী থাকায় ঘরে ফেরা মানুষ ও ঢাকার আয়েশি মানুষের কেনাকাটায় উৎসবের আমেজ্ এখন ঢাকার অন্যতম এ মার্কেটে। নিচতলা থেকে শুরু করে সপ্তম তলা পর্যন্ত বিশাল এ মার্কেটের প্রতিটি দোকানেই রয়েছে ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভিড়।

প্রতি ঈদের ন্যায় এবারও র্যাফেল ড্রর মাধ্যমে ক্রেতাদের জন্য প্রথম পুরস্কার হিসেবে গাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা এখন মার্কেটের নিচতলায় শোভা পাচ্ছে। মাত্র ২০০ টাকার কেনাকাটা করেই ক্রেতারা দুটি ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি, ফ্রিজ, এলইডি টিভি, তিনটি মোটরসাইকেল ও হীরার গহনাসহ অসংখ্য পুরস্কার জেতার সুযোগ পাবেন। একজন ক্রেতা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ১০টি র‌্যাফেল ড্র নিতে পারবেন।

মার্কেটের নিচতলায় বিক্রি হয় তরুণ-তরুণীদের পশ্চিমা ডিজাইনের পোশাক। এ ছাড়া আছে ঘড়ি ও মোবাইল ফোন। বাচ্চাদের বিভিন্ন আধুনিক পোশাক। এখানে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ইয়েলোর শো-রুমে। ধানমণ্ডি থেকে বান্ধবীদের নিয়ে এসেছেন আলভি রহমান। থ্রি-পিজ ও টপস কিনেছেন তিনি। দাম একটু বেশি হলেও গুণগত মান ভালো বলেই এখান থেকে কেনেন বলে জানান তিনি।

এছাড়াও এখানকার আধুনিক ডিজাইনের পাঞ্জাবির চাহিদাও অনেক বেশি। ইয়েলোতে এ ঈদে ‘ব্লু কোস্ট’, ‘সিগাল’ নামে সুতি ও সিনথেটিক কাপড়ের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। দাম ১ হাজার ৫৯৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৯৫ টাকা।

মার্কেটের ২য় তলায় আছে ছেলেদের বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকান। এখানকার প্রতিটি দোকানেই রয়েছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এর মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি।  তাদের পাঞ্জাবি কিনতেই বেশি দেখা যায়। গরমের কারণে  ভালো সুতাঁয় তৈরি পাঞ্জাবিতে ক্রেতাদের  বেশি আগ্রহ বলে জানিয়েছেন বিপনী বিতানের বিক্রেতারা। বিভিন্ন দোকানের এলভিস, সালভেস্টর, সোলসহ নানান নামের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫ টাকার মধ্যে।

মার্কেটের তৃতীয় তলায় মেয়েদের থ্রি-পিজ, সেলোয়ার-কামিজের দোকান। এখানে গতবারের মতো এবারও বিক্রেতারা  ভারী কাজের বেশ দামি সালোয়ার কামিজ উঠিয়েছেন। বিক্রেতারা জানান, এবার তরুণীদের মধ্যে  ফ্লোর টাচ, পাখি ও গাউন ড্রেসের প্রতি আগ্রহট বেশি। ফ্লোর টাচ নেট ও সিনথেটিক কাপড়ে তৈরি। ঘাড় থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত লম্বা এ পোশাকটি। এতে রিয়েল স্টোন, পুঁতি, চুমকিসহ বিভিন্ন মোটিফের কাজ রয়েছে। পোশাকগুলোর দাম ৭ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার টাকা।

তলায় রয়েছে শাড়ির দোকান। এখানেও একই রকম ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার নিয়ে এসেছেন অনেক ক্রেতা। ৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের শাড়ি পাওয়া যায় এখানে। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি হাতের কাজের শাড়ি রয়েছে। পছন্দসই হওয়ায় এখানকার শাড়ি ঈদে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার জন্য কিনতে এসেছেন অনেকে।

৫ম তলায় চশমা ও গহনার দোকান। এবারের ঈদে এ বিপণী বিতানগুলোতে কিছুটা কেনাবেচা থাকলেও গত বারের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

মার্কেটের ছয় তলায় জুতার দোকান। ‘বে এম্পোরিয়াম’, এপেক্স, ‘হাস পাপি’সহ ব্র্যান্ডের জুতার দোকান ছাড়াও অন্য জুতার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তবে ব্রান্ডের সব দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ্যনীয় থাকলেও অধিকাংশ দর্শনার্থীই ডিজাইন দেখতে আসেন বলে জানান এপেক্স শো-রুমের ম্যানেজার সাব্বির রহমান।

বসুন্ধরা মার্কেটে আসা ক্রেতাদের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হচ্ছে এর সাত তলা। তরুণ-তরুনীসহ সকল বয়সের মানুষের সব ধরণের আধুনিক ডিজাইনের পোশাকের সমাহার এখানে। ইসটেসি, ইনফিনিটি, ওয়েস্টেকস, দেশি-দশ, অঞ্জনস, দেশালসহ বড় বড় সব ব্যান্ডের শো-রুম এখানে। দেশি দশের রয়েছে একসঙ্গে ১০টি দেশি ফ্যাশন হাউসের পোশাক দেখে যাচাই বাছাই করে পছন্দনীয় পোশাকটি কেনার সুযোগ।

দেশি দশে’র ক্রে-ক্রাফটের বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানান, ঈদে এবার ফ্যাশন হাউসটি হাফ সিল্ক, এন্ডি সিল্ক, এঙ্ক্লুসিভ শিফন ও সুতির শাড়ি নিয়ে এসেছেন। দাম সাড়ে তিন হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। শাড়িতে স্ক্রিন প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারি, ব্লক প্রিন্ট ও কারচুপির কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া তরুণীদের স্ক্রিন প্রিন্ট, জয় সিল্ক ও সুতির ভারী কাজের কামিজের সঙ্গে চুড়িদার ও পাতলা রঙিন ওড়নার থ্রি-পিস এবার আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তরুণদের লম্বা এন্ডি ও সুতির পাঞ্জাবি ১২০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোশাকে এবার বেগুনি, আকাশি, ফিরোজা, কমলা, গোলাপি ইত্যাদি উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। একই তলায় ‘ইনফিনিটি’ নামক মেগা শপে জামা-জুতা ছাড়াও ব্যাগ, প্রসাধনী সামগ্রীর বিশাল সংগ্রহ। ঈদকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনতে ক্রেতাদের উপছে পড়া ভিড় এখন এখানে।

এইউ নয়ন

এই বিভাগের আরো সংবাদ