প্রাইম ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন
বৃহস্পতিবার, ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অপরাধ ও আইন

প্রাইম ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন

ACC_PrimeBank

ফাইল ছবি

৯২ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রাইম ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলায় চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর দিলকুশায় প্রাইম ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখাসহ বেশ কয়েকটি শাখা থেকে বিভিন্ন হিসাবের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভুয়া ঋণগ্রাহক দেখিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে মামলায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দু’একদিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

মামলায় প্রাইম ব্যাংকের যে ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে তারা হলেন- ব্যাংকের দিলকুশা শাখার শাখার প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ অফিসার কামরুল আহমেদ ফেরদৌস, আইবিবি দিলকুশা শাখার প্রাক্তন ম্যানেজার ইজবাহুল বার চৌধুরী, ফার্স্ট অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বালী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ সালেহ উদ্দিন, মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া, মিরান হোসেন, এস্ এম জাকির হোসেন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, এস এম এ মজিদ আনছারী, সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ নূরুল আমিন ও প্রাক্তন ট্রেইনি অ্যাসিসট্যান্ট মুহাম্মদ শামসুল আলম।

ব্যাংকের বাইরে যে ২০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

দাখিল করা হবে তারা হলেন- নিউ এস কে এন্টারপ্রাইজের মালিক সাজেদুর রহমান, কে এস এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. শাহাদাত ইসলাম, এস কে এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহমুদুল ইসলাম, এস এল এন্টারপ্রাইজের মালিক কাউছার আলী খান, ত্রিটেক ৬৯ প্রতিষ্ঠানের মালিক তাসনিম আলম, ব্রাঞ্চ সল্যুশনের পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম. লুলু কর্নারের মালিক জাকির হোসেন, ইলহাম এন্টারপ্রাইজের মালিক তাসমিন শারমীন, চন্দ্রঘোনা শেরপুরের বাসিন্দা রুহুল আমীন সিদ্দিকী, ফিরোজ ট্রেডার্সের মালিক মো. ফিরোজ আলম, নাজমুন নাহার, মিরপুরের বাসিন্দা রাজিয়া জান্নাতী ডালিয়া, কামরুন নাহার, মিসেস রত্না মাহবুব, মকবুল হোসেন খান, ইউরো এক্সপ্রেসের মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন, ইজরা এশিয়া ট্রেড অ্যান্ড প্যাক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এনায়েত উল্লাহ ইকবাল, পরিচালক এম এরশাদ উল্লাহ আকমল, মিরপুর-১ এর বাসিন্দা মিসেস ফাহানা আক্তার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কৃষিবিদ আবুল হাসেম ও সাব ভেলি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব-ই-এলাহী।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০০২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংকের দিলকুশা শাখার প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ অফিসার কামরুল আহমেদ ফেরদৌস ব্যাংকটির আইটি সিস্টেম, নিজের পাসওয়ার্ড এবং ওই শাখার সংশ্লিষ্ট অপর কর্মকর্তার পাসওয়ার্ড কৌশলে ব্যবহার করেন। তিনি বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় বিভিন্ন ভুয়া ঋণগ্রাহক দেখিয়ে ৯২ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ৯০৩ টাকা তুলে আত্মসাত করেন।

প্রাথমিকভাবে ৪৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় ২০১২ সালের ২৯ মার্চ প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইফতেখার হোসেন বাদী হয়ে ব্যাংকের ওই শাখার নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহমেদ ফেরদৌসকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

পরে মতিঝিল থানা পুলিশ মামলাটি দুদকের তফসিলভুক্ত এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ থাকায় তদন্তের জন্য মামলাটি দুদকে পাঠিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে দুদকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মামলাটির তদন্ত শেষ করেন। তদন্তে ৯২ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৯০৩ টাকা আত্মসাতের সঙ্গে ১০ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩০ জনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ