শুভ বড়দিন

merry-christmas-2আজ বুধবার,২৫ ডিসেম্বর।  খ্রীষ্ট্রান ধর্মাবম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ‌‍‌‘বড়দিন’। আজ থেকে ২ হাজার ১৩ বছর আগে ২৫ শে ডিসেম্বর এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন যিশু খ্রীষ্ট। বর্তমান ফিলিস্তিনের বেথলেহেম নামক স্থানে কুমারি মাতার গর্ভে জন্ম নেন তিনি।

খিৃস্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, তিনি ঈশ্বরের ছেলে।পৃথিবীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিতে তার আগমণ ঘটেছিল।

সকল খ্রিস্টান সম্প্রদায় আজ উৎসব আমেজে নিজেদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান বড়দিন উদযাপন করছেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আনন্দ ও উপাসনার মধ্য দিয়ে বড়দিন উৎযাপন করা হচ্ছে।

দিনটি উৎযাপনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বড় দিন উপলক্ষে রাজধানীর  গির্জা ও বড় বড় হোটেলগুলো সেজেছে নতুন সাজে। খ্রীষ্টান পবিারগুলো  ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে, কেক তৈরি করে, মোমবাতি জ্বালিয়ে আনন্দের সাথে দিনটি উৎযাপন করছেন।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্টপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, ‘আবহমান কাল থেকে এদেশের মানুষ ভালবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। বাংলাদেশে খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীগণ শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে যে ভূমিকা রাখছে তা প্রশংসার দাবিদার।’ সুখী-সমৃদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মহান সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার, পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালবাসার মাধ্যমে বিশ্বকে মানুষের শান্তির আবাস ভূমিতে পরিণত করার লক্ষ্যে যুগে যুগে যেসব মহামানব পৃথিবীতে এসেছেন তাদের মধ্যে যিশু খ্রীষ্ট ছিলেন অন্যতম। তিনি পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভের পথ দেখিয়েছেন।’

অপর এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খ্রীষ্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রীষ্ট এ দিনে বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেন। শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য পৃথিবীতে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই ছিল যিশু খ্রীষ্টের অন্যতম ব্রত। বিপন্ন ও অনাহারক্লিষ্ট মানুষের জন্য মহামতি যিশু নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার জীবনাচরণ ও দৃঢ় চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য মানব ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন।’

দেশের চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে উৎকণ্ঠিত খ্রীষ্টান ধর্মালম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে বড়দিন পালন করতে পারেন সে জন্য আইন শৃঙ্খলাবানীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

সান্তাক্লজ নিজে বড়দিন উপলক্ষে গির্জাগুলোতে শিশুদের হাতে উপহার তুলে দিতে হাজির হবেন। বড়দিন উপলক্ষে সারা দিন ধরে গির্জাগুলোতে চলবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালা। এছাড়া বড়দিন উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠান প্রচার করবে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো।

 

কেএফ