ঝলসে উঠেছে সাদা সোনা

shrimp, চিংড়ি, হিমায়িত খাদ্য

Shrimp_Mixedআবার ঝলসে উঠছে দেশের সাদা সোনা চিংড়ির রপ্তানি। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের মধ্যে প্রতি মাসেই এ খাতে রপ্তানি আয়ে বেড়েছে। পাঁচ মাসে চিংড়িসহ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৭ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপবি) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে আট কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।

হিমায়িত খাদ্যে রপ্তানি আয় শুধু আগের বছরের একই সময়ের আয়ের চেয়ে বেশি নয়, এটি চলতি বছরের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এ খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ কোটি ডলার। বাস্তবে আয় হয়েছে তার চেয়ে প্রায় ১০ কোটি ডলার বেশি।

ইপিবির তথ্য অনুসারে, জুলাই মাসে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় ২৪ শতাংশ। জুলাই-আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ শতাংশ। প্রথম তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয় ৪৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অক্টোবর পযন্ত সময়ে তথা চার মাসে প্রবৃদ্ধি হয় ৩৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় এবছর বিশ্ববাজারে হিমায়িত চিংড়ির দাম বেড়েছে।

বিশ্ববাজারে হিমায়িত চিংড়ির মূল্যবৃদ্ধি আমাদের জন্য চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকরা লাভবান হবে। ফলে  চিংড়ি চাষের প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

তবে কিছু কিছু মাছের রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে এবছরের প্রথম প্রান্তিকে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সবগুলো উপ-খাত এক সাথে পারফরম করলে হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি অনেক বেড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বছরে মাছের উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু রপ্তানি হয় মাত্র ৬ হাজার মেট্রিক টন। ফলে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানি আয় বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের তিনটি বৃহৎ চিংড়ি উৎপাদনকারী দেশ থাইল্যান্ড,ভিয়েতনাম ও চিন থেকে চিংড়ি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা বাড়ছে।