টানা অবরোধে প্রতিদিন ব্যাহত হচ্ছে ৫ লাখ টাকার সবজি বিক্রি

YASHICA Digital Cameraবর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় টানা অবরোধ আর হরতালের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার সবজি চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন ব্যাহত হচ্ছে প্রায় ৫ লাখ টাকার সবজি বিক্রি। শীতকালীন এসব সবজি অবরোধের কারণে বিক্রি করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। এবার সবজি চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষকরা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাযায় ব্রাক্ষণবাড়িয়ার জেলার ৯টি উপজেলায় এ বছর সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, বিজয়নগর, আখাউড়া ও আশুগঞ্জ উপজেলায়। এসব উপজেলায়বেগুন, আলো, ফুলকপি, বাধাকপি, মিষ্টিকুমড়া, করলা, বরবটি, ঢেড়স, কাকরল, গাজর, সিম, টমেটো, পুইশাক, ক্ষিরাসহ নানা প্রজাতির সবজি চাষ করা হয়েছে। শীতকালীন এসব সবজির ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এই সবজি চাষকে কেন্দ্র করে আখাউড়া উপজেলার বনগজ ও বিজয়নগর উপজেলার মেরাসানী বাজারে গড়ে উঠেছে বিশাল সবজির হাট।

স্থানীয় এই ২টি বাজারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হচ্ছে বলে চাষিরা জানায়। সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগ ভালো থাকায় পাইকাররা এসে এখান থেকে সবজি নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করছেন। বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলার অর্ধ সহস্রাধিক পরিবার দীর্ঘ দিন যাবত সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এ চাষে খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় গ্রামের লোকজন সবজি চাষের দিকেই ঝুঁকছেন। তাই প্রতি বছই বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি।

কিন্তু টানা অবরোধ আর হরতালের কারনে পরিবহন সংকটে প্রচুর পরিমাণ সবজি তাদের আটকে যাওয়ায় আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। পাইকারী ক্রেতারা না আসায় জমি থেকে সবজিও উত্তোলন করছে না কৃষক। বর্তমানে জমিতেই সবজি নষ্ট হতে চলেছে বলে স্থানীয় চাষিরা জানায়। ফলে স্থানীয় বাজারেও সবজির প্রভাব পড়ে যায়। হরতালে কারনে সড়ক পথে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় বাজারে কাচামাল ব্যবসায়ীদের আড়তে মজুত থাকা কাচামালগুলো বাহিরে পাঠাতে না পাড়ায় সবজিগুলো নষ্ট হতে চলেছে। কৃষক মুখলেছ মিয়া বলেন, এখানে সারা বছরই সবজি চাষ হয়ে থাকে।

এখানকার সবজি ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদা ও রয়েছে ভালো। কিন্তু হরতালের কারণে সবজি বিক্রি একে বারে কমে গেছে। বিক্রি করতে না পাড়ায় অনেক সবজিও নষ্ট হতে চলেছে। এ কারণে লাখ লাখ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন কৃষক ও সবজির পাইকারি বিক্রেতারা। এভাবে একর পর এক হরতাল থাকলে আমরাতো একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাব। সবজি চাষি আব্দুর বারিক মিয়া বলেন, এ মৌসুমে ৩ একর জমিতে বেগুন,টমেটো, কুমড়া, করলা, বরবটি, ঢেড়সসহ নানা জাতের সবজি চাষ করেছি। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বেচা কেনা। প্রতিদিন বাজারে ১০থেকে ১২হাজার টাকা বিক্রি হয় সবজি।

কিন্তু আবরোধের কারণে কোনো সবজিই বিক্রি করতে পারছি না। ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, মেরসানি বাজার থেকে প্রতিদিন দুই মিনি ট্রাক সবজি কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নেয়া হত। কিন্তু যখন  অবরোধ থাকে নিয়ে যাওয়ার আতংকে কোনো প্রকার সবজি কেনা হয় না। বিক্রি না হওয়ার কারণে বাজারেও সবজি গুলো নষ্ট হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলাই চন্দ্র দাস জানান চলতি বছর ১৪৬০ হেক্টর জমিতে আলু ও ৭০৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন সবজি চাষ হয়েছে। এসব সবজির ফলনও ভালো হয়েছে। টানা হরতাল অবরোধের কারণে সবজি বেচা কেনা কিছুটা কমেছে। এই অজুহাতে পাইকারি ক্রেতাদের কাছ থেকে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। এতে করে কৃষকরার তেমন একটা লাভবান হতে পারছে না।

এআর