রানা প্লাজা ট্রাজেডি; ক্রেতাদের সহায়তা আসতে পারে ফেব্রুয়ারিতে

Dhaka_Savar_Building_Collapseরানা প্লাজা ট্রাজেডির আট মাস পেরিয়েছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের হাহাকার আজও থামেনি। যারা স্বজন হারিয়েছেন, যেসকল কর্মীরা হারিয়েছে তাদের শরীরের অঙ্গ তাদের করুনগাঁথা সেভাবে শুনেনি কেউ। সরকার প্রতিশ্রুত সহায়তাও পায়নি সকলে। ওই ভবনে তৈরি পোশাকের যে কারখানাগুলো ছিলো তাদের ক্রেতারাও এখনও কিছু দেয় নি সে অর্থে।

তবে এতদিন পরে শেষ পর্যন্ত আসছে ফেব্রুয়ারি মাসে হয়তো ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মিলতে পারে সহায়তা। প্রায় ৪০ লাখ মার্কন ডলারের সহায়তা তহবিল ফেব্রুয়ারি মাসেই ছাড় হতে পারে বলে দ্যা নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ক্ষতিপূরণের তহবিল গঠনে নিয়োজিত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিহতের পরিবার গড়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবে। অন্যদিকে যেসব শ্রমিকরা আহত হয়েছে তারা প্রত্যেকে এক বছরে ১৯ শত ডলার পাবে।

তবে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও কত টাকা করে এই তহবিলে দিবে সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু বলেনি।

প্রসঙ্গত, ওই ঘটনার ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার পায়নি ক্ষতিপুরণ। তারই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে  এসব ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের  ৪০ লাখ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার  উদ্যেগ গ্রহণ করেছে কিছু বিদেশি পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংস্থা।

ইতোমধ্যে, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ক্ষতিপূরণে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বন মারসি, ইআই কোর্টি ইঙ্গল, লোবলো এবং প্রাইমার্ক অনুদান দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে যু্ক্তরাষ্ট্রের কোন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চুক্তিতে সই করেনি।

ইউরোপীয় এন্টিওয়েটশপ গ্রুপের ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইনের আন্তর্জাতিক উদ্যেক্তা আইনিক জিলডেনরাস্ট জানান, শ্রমিকদের ক্ষতিপুরণে এই অনুদান চুক্তি একটা ভালো ফলাফল বয়ে নিয়ে আসবে বলে আমরা মনে করছি। যেসব বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে পোশাক ক্রয় করে তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে তিনি আহবান করেন।

তিনি বলেন, এই অনুদান রানা প্লাজা ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের পরিবারের ক্ষতিপুরণ হিসেবে দেওয়া হবে ।এখন আমাদের উচিত এই ফান্ড গঠনে অন্যান্য কোম্পানিকে আহবান করা।

অবশ্য, ক্ষতিগ্রস্থদের পরিবার গত সাত মাস ধরে বাংলাদেশ সরকার এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রাইমার্ক থেকে কিছু কিছু ক্ষুতপুরণ পেয়ে আসছে। কিন্তু এই ক্ষতিপূরণ তাদের জন্য যথেষ্ঠ নয়। তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ওই ঘটনায় কোনো সন্তান হারিয়েছে তার মাকে কেউবা হারিয়েছে তার বাবাকে। ফলে পরিবারে ভরণ পোষণ হয়ে পড়েছে অচল। শ্রমিকদের কেউকেউ মারাত্নক ভাবে আহত হয়েছে তারাও  আর কাজ করে খেতে পারছে না।

গত একদশকে বাংলাদেশে পোশাক কারখানা ধস, কারখানায় অগিনকান্ড ইত্যাদিতে প্রায় ১৮ শ শ্রমিক নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার একজন কর্মকর্তা ড্যান রিজ বলেন, আমরা যদি বাংলাদেশেরে কারখানায় এসব নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের ইতিহাসের দিকে তাকাই, তবে দেখতে পাই, এই ক্ষতিপুরন যথাযথ নয়। কিন্তু এটা তাদের প্রাপ্য।

এই ক্ষতিপূরণ দিতে বাংলাদেশের যেসব সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে তারা হচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ম্যানুফেকচারার এ্যন্ড এক্সপোর্টার এসোসিয়েশন, ইন্ডাসট্রিয়াল অল গ্লোবাল ইউনিয়ন, বাংলাদেশ এমপ্লোয়ারস ফেডারেশন এবং মেইন বাংলাদেশ কোয়ালিশন অব লেবার ইউনিয়ন।

কিছূ কিছু ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবং শ্রমিক অধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ক্রেতারা এই ক্ষণতিপূরণ দিতে রাজি নয়।

উল্লেখ্য চলতি বছর এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসে প্রায় ১১০০ মানুষ নিহত হয়।