চার কোম্পানির শেয়ার কারসাজিঃ ফের বাড়লো তদন্তের সময়
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

চার কোম্পানির শেয়ার কারসাজিঃ ফের বাড়লো তদন্তের সময়

পুঁজিবাTallu_Bangas_Mithun_CVOজারের তালিকাভুক্ত চার কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি তদন্তে আবারও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কাজ শেষ করতে না পারায় তাদেরকে আরও ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানো হল তদন্ত কমিটির। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল, মিথুন নিটিং, তাল্লু স্পিনিং এবং বঙ্গজের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পেছনে কোনো কারসাজি আছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। কমিটিকে প্রথম দফায় ১৫ কার্যদিবস সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ায় কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় আরও ১০ দিন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও কমিটি তার কাজ শেষ করতে পারেনি। এমন অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় ফের সময় বাড়ানো হয় ১৫ দিন।

এদিকে কারসাজি তদন্তে দফায় দফায় সময় বাড়ানোর বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ছোট মূলধনের চারটি কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা খুবই কম। আর অল্প কয়েকটি ব্রোকারহাউজের মাধ্যমে শেয়ারের বড় অংশ বেচা-কেনা হয়েছে। যে সব ব্যাক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ারের বড় অংশ লেনদেন করেছেন তাদের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করলেই কারকাজি সংক্রান্ত কিছু আভাস পাওয়া সম্ভব। তারা মনে করেন, এসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে খোদ কোম্পানির প্রভাবশালী অংশের কোনো যোগাযোগ থেকে থাকতে পারে।

উল্লেখ, কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই আলোচিত চার কোম্পনির শেয়ারের দাম আগস্ট মাসের প্রথম ভাগ থেকে অস্বাভাবিকহারে বাড়তে থাকে। এক মাসে তাল্লু স্পিনিংয়ের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে ৩২ টাকা থেকে ৪৭ টাকায় উঠে যায়। অন্যদিকে সিভিও পেট্রো ক্যামিকেলসের শেয়ারের দাম বাড়ে ১০০ শতাংশের বেশি। আগস্টের গোড়ায় এর শেয়ারের দাম ছিল ৪শ টাকা। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এর দাম উঠে ৮৫০ টাকায়। বাকী দুই কোম্পানির শেয়ারেও ছিল প্রায় অভিন্ন অবস্থা।

শেয়ার দামের বিরতিহীন উর্ধগতির প্রেক্ষিতে এর কারণ তদন্তের উদ্যোগ নেয় কমিশন। গত ২৮ আগস্ট বিএসইসির কমিশন বৈঠকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয় ১৫ কার্যদিবস। কিন্তু কমিশন বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে অফিস আদেশ জারী হতেই লেগে যায় ১৭ দিন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কমিটিকে তদন্ত কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়ে আদেশ জারী করে।

এ ব্যাপারে কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, ‘চার কোম্পানির তদন্ত প্রতিবেদন ২৩ অক্টোবরের মধ্যে দাখিলের সময়সীমা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে করে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। এ জন্য তারা আবারও দ্বিতীয় দফায় তারা ১৫ কার্যদিবস সময় চেয়েছে। কমিশন ওই কোম্পানিগুলোর তদন্তের জন্য আবারও সময় দিবে।

অর্থসূচক/জিইউ/সাদিয়া

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ