'১০ মাসে ৯১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়'
রবিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

‘১০ মাসে ৯১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়’

Muhith

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত (ফাইল ছবি)

বিদায়ী২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ৯০ হাজার ৭০৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে সরকার।

মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

সরকারি সংবাদ সংস্থা- বাসস জানিয়েছে, সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ৯০ হাজার ৭০৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

তিনি জানান, রাজস্ব আদায় গতিশীল করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের অংশ হিসাবে বিভিন্ন কর আদায়ে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করার উদ্দেশ্য এবং কর আদায়কারী ও করদাতাদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়কর আইনে দ্রুততম সময়ে ও সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ‘এডিআর সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতিকে যুগোপযোগী করার জন্য আয়কর বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন করা হয়েছে।

মুহিত বলেন, কর ফাঁকি উদঘাটন এবং তদন্ত করে কর পরিপালন বৃদ্ধির জন্য ‘সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স সেল’ (সিআইসি) কাজ করছে। সিআইসি স্পর্শকাতর কর ফাঁকি মামলাসহ সেক্টরভিত্তিক কর ফাঁকি দক্ষতার সাথে তদন্ত করছে। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতায় গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সও কর ফাঁকি তদন্তের কাজ করছে। কর ফাঁকি ও জালিয়াতি রোধে সিআইসি ও এর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে দপ্তরসমূহের মাধ্যমেও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কর ফাঁকি ও পরিহার মোকাবেলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সাথে কর বিষয়ক তথ্য বিনিময় এবং দ্বৈতকর পরিহার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পাদনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০১১ সালে সদস্য (ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেস), প্রথম সচিব (ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেস) ও একাধিক দ্বিতীয় সচিবের পদ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক কর বিষয়ক কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আসছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ আইন ২০১২’র মাধ্যমে বাংলাদেশের কর আইনে ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের বিধান সংযোগ করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের অপব্যবহার রোধের সক্ষমতা অর্জন করেছে। ট্রান্সফার প্রাইসিংয়ের বিধান সংযোজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কর অঙ্গনে সর্বাধুনিক ধারণাকেও বাংলাদেশের আয়কর আইনে সংযোজিত হয়েছে এবং দেশের আয়কর আইন সর্বোতভাবে বিশ্বমানে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও কর অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সিকিউরিটিজ এন্ড এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতার বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি)’র অধীনে একটি এ্যান্টি মানি লন্ডারিং টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর ফলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আরও কার্যকর অংশগ্রহণ সম্ভব হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো, সিএসআর’র ক্ষেত্রে কর রেয়াত প্রদান বা বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে অনুদানের ওপর কর সুবিধা বিধান করার মাধ্যমে সমাজের কম সুবিধাভোগী মানুষদের কর সুবিধা দেয়ার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নীট সম্পদের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট অংক অতিক্রম করলে সম্পদের ওপর সারচার্জ আরোপ করা, উচ্চ মূল্যের বাড়ি অথবা গাড়ি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রগ্রেসিভ হারে করারোপ ইত্যাদির মাধ্যমে অধিক সুবিধাভোগী মানুষের কাছ থেকে বেশি রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর ফলে সৎ করদাতাগণ উৎসাহিত হবেন এবং কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা বৃদ্ধি পাবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ