রোববার ব্যাংকারদের সঙ্গে বিবির বৈঠক,প্রাধান্য পাবে ঋণ শ্রেণীকরণ ও পুনঃতফসিল
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

সোমবার ব্যাংকারদের সঙ্গে বিবির বৈঠক,প্রাধান্য পাবে ঋণ শ্রেণীকরণ ও পুনঃতফসিল

bb_buildingদেশের বর্তমান পরিস্থিতে ব্যাংকগুলোর করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে  নির্বাহীদের সাথে আলোচনায় বসবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার দুই দফায় তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশেষায়িত ও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকের সাথে,সাড়ে ১২টায় দেশীয় ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে বৈঠক হবে। বৈঠকে ঋণ তফসিলিকরণ, শ্রেণীকরণের সময় বৃদ্ধি এবং সুদহার কমানোর ব্যাপারে আলোচনা হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে,বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ তাদের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না,ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেকেই ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না।

এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তাদের জন্য অনুকূল ব্যাংক ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তারা দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা ব্যবসায়িক কর্মকান্ড অব্যাহত করার লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিদ্যমান ৩ মাসের সময়সীমা ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং ৬ মাসের সময়সীমা ৯ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য আবেদন করেন।

এছাড়া গত ১৫ ডিসেম্বর এফবিসিসিআই এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা একত্রে গভর্নরের সাথে বৈঠকে করেন। বৈঠকে তারা শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য আগামী চার মাসের জন্য অর্থের যোগান দেওয়া(দুই বছরের মধ্যে সমন্বয়যোগ্য),বিশেষ পিসি ঋণ বাদে সব ধরনের ঋণ সুদ ছাড়া আগামী দুই বছরের জন্য ব্লক করা,সব ধরনের পোশাক শিল্প এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সহযোগী শিল্পের ঋণ চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে আগামী দুই বছরের জন্য শ্রেণীকরণ না করা,এলসি খোলা সহ অন্যান্য কাজে কোন হস্তক্ষেপ না করা এবং সব ধরনের ঋণের কিস্তি আগামী দুই বছরের জন্য বন্ধ করার আহবান জানান। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে সুদহার কমানোরও আহবান জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ওই দিনই এক প্রজ্ঞাপন জারি করে ইডিএফ থেকে ১ শতাংশ সুদ কমায়। এছাড়া ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আবেদন ব্যাংক নির্বাহীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা হবে বলে জানানো হয়।

এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল ব্যাংক নির্বাহীদের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন,দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা মারাত্নক চাপের মধ্যে আছেন। তাই তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবি আমাদের কাছে করেছেন। এজন্য আমরা আগামীকাল ব্যাংকারদের সাথে বৈঠক করে ব্যবসায়ীদের দাবি কতটুকু পূরণ করা যায় তা দেখবো।

এই বিভাগের আরো সংবাদ