এই শীতে খুশকিমুক্ত চুলের জন্য………

is_your_hair_beautifulশীতকাল ঘুমের জন্য উপযুক্ত, কিন্তু ত্বকের জন্য মারাত্মক অসহ্যকর; চুলের জন্যেও। শীতকালে ত্বক রুক্ষ হওয়া, ঠোঁট ফাঁটার মতো খুবই সাধারণ আরেকটা সমস্যা হলো চুলে খুশকি বেড়ে যাওয়া। মাথার স্ক্যাল্পে প্রতিনিয়ত নতুন কোষ হয়, আর মৃত কোষগুলি ঝরে যায়। ফলে খুশকিও বেড়ে যায়। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু উপায় জানাচ্ছে অর্থসূচক।

১. রোজ সকালে লেবুর রস খেতে পারেন। এতে খুসকির সমস্যা অনেকটাই বিদায় নিতে পারে। লেবুর রস স্ক্যাল্পেও লাগাতে পারেন। তবে সরাসরি লেবুর রস না দেওয়াটাই ভালো। এতে চুল পড়ে যাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যাবে। জল গরম করে তাতে লেবুর রস দিয়ে মাথায় দিয়ে দেখতে পারেন। ১৫ মিনিটের মতো রাখতে হবে এই যা। তারপর ধুয়ে ফেলতে পারেন। দেখবেন, খুশকি তো দূর হয়েছেই, চুলকানিও কমে গেছে।

২. খুশকির সমস্যা থাকলে ভুলেও তেল ব্যবহার করবেন না। খুব যদি দরকার হয় বেবি ওয়েল ব্যবহার করতে পারেন। তবে বেবি ওয়েল লাগিয়ে ৫-১০ মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। পরের দিন হার্বাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুতে হবে কিন্তু।

৩. ভিটামিন-বি, বি৬, বি১২ ও ভিটামিন-ই জাতীয় খাবার খেতে পারেন। এতে মাথায় ওয়েলি ভাব দূর হবে, খুশকির সমস্যাও কমে যাবে বহুলাংশে। প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং ফলমূল-শাকসবজি খান। খুশকি পালাবেই পালাবে। তবে সাবধান, মিষ্টি জাতীয় খাবার বা কাফিন জাতীয় পানীয়/খাবার খাওয়া যাবে না।

৪. অলিভ ওয়েল ও আমন্ড তেল একসঙ্গে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন। পাঁচ মিনিটের মতো। হালকা ম্যাসেজও করতে পারেন। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। রাতে শোবার আগে অলিভ ওয়েল লাগাতে পারেন। অলিভ ওয়েল চুলের কন্ডিশনারের কাজ করবে। সকালে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতিটি সপ্তাহে ২-৩ বার করলে নিশ্চিতভাবে উপকার পাবেন।

৫. অ্যালোভেরার জেল ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটি প্রাকৃতিক ভেষজ, যা চুলের স্বাভাবিক ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে মরা কোষগুলো খুশকিতে রুপ নেবে না।

৬. গরম জলে ৩-৪ টি নিম পাতা দিয়ে ভাল করে ফোটান। তারপর সময় নিয়ে স্নান করুন। ব্যাকটেরিয়া দূর করতে নিমের উপকারিতা বলে শেষ করার মতো নয়।

৭. যাদের তৈলাক্ত ত্বক তারাই বেশি খুশকি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আপনাদের জন্য পরামর্শ হলো ভিটামিন ই ( অ্যাভাক্যাডো) ও জিঙ্ক ( সি-ফুড, বাদাম, ডাল) খেতে পারেন নিয়মিত।

৮. পারলে আমলা গুঁড়ো ভাল করে পিষে তাতে তুলসি পাতার রস দিয়ে তা স্ক্যাল্পে লাগান। ঘন্টা খানেক রেখে শ্যাম্পু করে নিতে পারেন

৯. খুশকির সমস্যা থাকলে কোনও হেয়ারস্টাইলিং শ্যাম্পু না করানোই ভালো। এক্ষেত্রে অল্প গরম করা ওলিভ ওয়েল স্ক্যাল্পে একঘন্টা রেখে দেখতে পারেন। তবে গরম পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিতে ভুলবেন আবার।

১০. এছাড়া শ্যাম্পু ব্যবহার করার আগে দেখে নিন তাতে টি-ট্রি ওয়েল, গ্রিন টি, কেটোকোলাজেল ও জিঙ্ক রিথোইন আছে কিনা। এগুলি খুশকি থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।