চমক শেষে সবই ফিকে
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

চমক শেষে সবই ফিকে

CVO_Jutespin_Legacy_BDAutoপুঁজিবাজারে হঠাৎ ঝলসে উঠা কিছু কোম্পানির চমক শেষ। একদিকে এসব কোম্পানির শেয়ারে চলছে বড় মূল্য সংশোধন; অন্যদিকে বের হয়ে আসছে এসব কোম্পানির আসল চিত্র। বেশ কয়েকটি কোম্পানি এর মধ্যে শূন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোনো কোনো কোম্পানি প্রকাশ করেছে সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন, যেগুলো হয় লোকসান না হয় নগন্য মুনাফা করেছে।

কিন্তু এরই মধ্যে ফেঁসে গেছেন অসংখ্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। এরা না বুঝে কারকাজিকারীদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে উচ্চ মূল্যে কিনেছেন এসব শেয়ার। অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে কয়েকটি কোম্পানির লেনদেন বন্ধ থাকায় আটকে গেছে অনেক বিনিয়োগকারীর পুঁজি। অন্যদিকে শেয়ারের দাম অনেক কমে যাওয়ায় অনেকে পড়েছেন বিপুল লোকসানে। এত লোকসান মেনে তারা এসব শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় শেয়ারের দাম বেড়ে আবার আগের অবস্থানে যাবে তেমন ভরসাও পাচ্ছেন না।

দীর্ঘ মন্দার ছেদ ঘটিয়ে গত আগস্ট মাসে হঠাতই যেন তেজী হয়ে উঠে পুঁজিবাজার। হু হু করতে বাড়তে থাকে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম। এসব শেয়ারের নেপথ্যে থাকা অসাধু চতুর বিনিয়োগকারীরা বাজারে ছড়িয়ে দেয় নানা গুজব। অন্ধের মতো এসব গুজবে বিশ্বাস করে দূর্বল মৌলের ওইসব শেয়ারে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া সতকর্তা উপক্ষো করে অবস্থান নেয় এসব মন্দ শেয়ারে। এতে মূল্য বৃদ্ধির আগুনে ঘি পড়ে। মূল্য বৃদ্ধির ধারা স্বাভাবিকতাকে ছাড়িয়ে যায়। অনেক কোম্পানির শেয়ারে বিক্রেতা উধাও হয়ে যায়। সার্কিট ব্রেকারের (একদিনে মূল্য পরিবর্তনের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ পর্যায়) শেষ সীমা স্পর্শ করতে থাকে দিনের পর দিন। গণমাধ্যমে অনেক লেখালেখির কারণে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করতে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে।

 

সিভিও পেট্রো ক্যামিকেল:

চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত কোম্পানি সিভিও পেট্রো ক্যামিকেল। গত এপ্রিল মাস থেকে এ কোম্পানির শেয়ারের দাম টানা বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বরে লেনদেন স্থগিত করার আগ পর্যন্ত পাঁচ মাসে এ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ে ৩০০ শতাংশের বেশি। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়েও এর শেয়ার ২০০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এর দাম উঠে ৮৭৫ টাকায়।

গত সপ্তাহে কোম্পানিটি সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে। অথচ আগের তিন বছর এটি ২০ শতাংশ বা তার বেশি হারে লভ্যাংশ দিয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির মুনাফায়ও ধস নামে। আগের বছর ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা নীট মুনাফা দেখানো হলেও সর্বশেষ বছরে তা ১ কোটি টাকা দেখানো হয়। এ হিসাবে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস ৩ টাকা ১৯ পয়সা থেকে ৫৮ পয়সায় নেমে আসে।

 

জুট স্পিনার্সঃ

পাট খাতের এ কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিও ছিল চমক লাগানোর মত।মাত্র এক মাসে এ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে জুট স্পিনার্সের প্রতিটি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে ৮০ টাকা দরে, মাসের শেষে তা উঠেছে ১৬০ টাকায়।

 

অথচ সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য এ কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। গত সপ্তাহে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এর নিরীক্ষিত হিসাব বিবরনী অনুমোদন করা হয। নিরীক্ষা রিপোর্ট অনুসারে আলোচিত বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪৮ টাকা।

লিগাসি ফুটওয়্যারঃ

সেপ্টেম্বর মাসে লিগাসি ফুটওয়্যারের শেয়ারের দাম বাড়ে প্রায় দেড়শ শতাংশ।শেয়ারের দাম ২০ টাকা থেকে উঠে ৪৭ টাকায়। অথচ কোম্পানিটি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় করেছে মাত্র ৭ পয়সা। আর ৯ মাসে আয় হয়েছে ১৬ পয়সা। এ হিসাবে এর মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও দাঁড়ায় ২৯৪। অর্থাৎ কোম্পানিটি তার সব মুনাফা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করলেও শেয়ারের মূল্য উঠে আসতে সময় লাগবে ২৯৪ বছর।

এই বিভাগের আরো সংবাদ