মন্দা বাজারেও বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ

Women_investor
সিকিউরিটিজ হাউজে লেনদেন চলছে

Women_investorতিন বছর আগে শুরু হওয়া ধসের পর থেকে পুঁজিবাজার আর সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। মাঝে মধ্যে তেজী অবস্থার আভাস দেখা গেলেও তা মিলিয়ে যেতে বেশি সময় লাগছে না। তবে এমন মন্দা বাজারেও বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠছেন নারী বিনিয়োগকারীরা। বাড়ছে তাদের অংশগ্রহণ। গত এক বছরে পুঁজিবাজারে নারীদের বেনিফিশারী ওনার্স বা বিও হিসাব বেড়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারী বলছেন, নিজেরা কিছু করবেন বা আয় বাড়াবেন এমন ভাবনা থেকেই এ বাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। কারণ এখানে বিনিয়োগে ঝুঁকি থাকলেও এর মতো ঝামেলাহীন বিনিয়োগের সুযোগ আর কোথাও নেই। তাছাড়া নারী বিনিয়োগকারীদের বড় অংশই শুধু প্রাথমিক গণ প্রস্তাবে (আইপিও) আবেদন করে থাকেন। এখানে ঝুঁকি নেই বললেই চলে।
সূত্র অনুযায়ী, ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৭ টি। আর এ বছরের অক্টোবর শেষে তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯৪ হাজার ৮৩৬টি। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিও বেড়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৮৮৯ টি। এ নিয়ে নারী বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯৪ হাজার ৮৩৬টিতে।

সূত্র অনুযায়ী আরও জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে নারীদের বিও বেড়েছে আট হাজার চারশ ৯৪টি এবং ডিসেম্বর মাসে বেড়েছে ছয় হাজার ১২০টি। অন্যদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সাত হাজার ১১৫টি, ফেব্রুয়ারিতে ১১ হাজার ৪৯টি, মার্চে ১৩ হাজার ৯৬৬টি, এপ্রিলে নয় হাজার ৬৩৮টি, মে মাসে চার হাজার ৭৪০টি, জুনে ৫৪৩টি, জুলাইয়ে ৩৪ হাজার ৪৪২টি, আগস্টে ছয় হাজার ৩২৪টি, সেপ্টেম্বরে ১৭ হাজার ৬১৭টি এবং অক্টোবর মাসে বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৭২টি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী নারী বিও সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৯৪ হাজার ৮৩৬টি।

এদিকে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মোট বিও হিসাব রয়েছে ২৭ লাখ ২২ হাজার ৬৯২টি। এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও রয়েছে ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৮৭৯টি। আর প্রবাসীদের এক লাখ ৪০ হাজার ১৭৮টি এবং কোম্পানির বিও রয়েছে নয় হাজার ৬৩৫ টি। তার মধ্যে ২০ লাখ ১৮ হাজার ২২১টি পুরুষ, ছয় লাখ ৯৪ হাজার ৮৩৬টি মহিলা ও ৯ হাজার ৬৩৫টি কোম্পানি বিও রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে মন্দা বিরাজ করলেও বিও হিসাব বাড়ছে। এটিকে ভালো চোখেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক মাত্র নারী পরিচালক খুজিসতা নূর-ই নাহরীন অর্থসূচককে বলেন, আগের তুলনায় নারীরা সচেতন হচ্ছেন। এই সচেতনতার অংশ হিসাবে তারা পারিবারিক কাজের ফাকে ব্যবসা বাণিজ্যে অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আর ব্যাবসা বাণিজ্যের অন্যতম একটি জায়গা হলো পুঁজিবাজার। এখানে খুব সহজেই ব্যবসা করা যায়। যদি এই কারো মোটামুটি জ্ঞান থাকে। তাহলে অন্য জায়গার তুলনায় ঝামেলা কম। তার মতে, নারীদের উচ্চ শিক্ষার হাড় যতো বাড়বে পুঁজিবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ ততো বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে বানকো সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী তানভিনা অর্থসূচককে বলেন, আমি নিজে নিজেই পুঁজিবাজারে ব্যবসা করার জন্য এসোছি। যদিও আমার ভাই অনেক আগে থেকেই পুঁজিবাজারের সঙ্গে আছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি নিজ থেকে একটা কিছু করতে চাই। আমার পরিবারের জন্য কিছু করতে চাই। এমন একটি প্রত্যাশা থেকেই আমার এ ব্যবসায় আশা। তার মতে, অন্য ব্যবসা থেকে পুঁজিবাজারে ব্যবসা করাটা মেয়েদের জন্য নিরাপদ।