মৌসুমেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে ঋণ বিতরণ আশানুরূপ নয়
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » কৃষি

মৌসুমেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে ঋণ বিতরণ আশানুরূপ নয়

Rice plant_6604খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য মূল মৌসুমেও এ খাতে আশানুরূপ ঋণ বিতরণ করেনি ব্যাংকগুলো। ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ১৩ কোটি ৫১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। বিতরণকৃত এ ঋণ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৪.৮৬ শতাংশ। তবে এক মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ১১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

খাদ্যে বৈদেশিক নির্ভরতা কমাতে আমদানি করা খাদ্যপণ্য চাষাবাদের ওপর বেশি জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব খাদ্যপণ্য চাষাবাদের জন্য কৃষকরা মাত্র ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ পেয়ে থাকে। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এসব ফসল যেমন ডাল, তৈলবীজ, ভুট্টা এবং মসলা চাষের উপযুক্ত সময়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ খাতে ঋণ বিতরণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি।

জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আমদানি নির্ভর খাদ্যপণ্য চাষাবাদের জন্য মোট ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ৯ টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ৬ টি ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ৭৪ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ৩০ টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে ১৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ২টি বিশেষায়িত ব্যাংক এ খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ১১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিতরণকৃত এ ঋণ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৫.২৯ শতাংশ। ৩০টি দেশীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছে ২ কোটি ১২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৫.৪০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ের মধ্যে বিদেশি দুটি ব্যাংক তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলেও আর কোন বিদেশি ব্যাংক এ খাতে কোন ঋণ বিতরণ করেনি।

আলোচ্য সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ৬টি ব্যাংক ডাল উৎপাদনে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার, তৈল বীজে ৯০ লাখ ৪০ হাজার, মসলায় ৯ কোটি ৮২ লাখ ৬৫ হাজার এবং ভুট্টায় ৪৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

দেশীয় ৩০ টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ডালে ১০ লাখ ৭১ হাজার, তৈল বীজে ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার মসলায় এক কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার এবং ভুট্টায় ৫২ লাখ ৭ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের এক কর্মকর্তারা  অর্থসূচককে বলেন, বছরের এ সময়টা আমদানি নির্ভর খাদ্যশস্য বেশি চাষ করা হয়। তাই আমারা এ সময় ঋণ বিতরণের ওপর বেশি জোর দিয়েছি। এসব খাদ্যশস্য চাষাবাদের জন্য মাত্র ৪ শতাংশ ঋণে কৃষকদের ঋণ পাওয়ার বিষয়টি প্রচারের জন্য সকল তফসিলি ব্যাংককে প্রচারের জন্য বলা হয়েছে। যেসব এলাকায় যে যে ফসল ভাল হয় সেসব এলাকায় ওই সমস্ত ফসলের ওপর বেশি ঋণ দেবার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু এখন এসব ফসলের উপযুক্ত সময় তাই এসময়টাতে ঋণ বিতরণ বাড়ছে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এ খাতে ঋণ বিতরণ অনেক বেড়েছে। দিন দিন ঋণ বিতরণ বাড়ছে। ঋণ দেবার জন্য ব্যাংকগুলোর প্রতি কঠোর নজরদারি অব্যাহত আছে। প্রতিনিয়ত ব্যাংকগুলোকে এ খাতে ঋণ বিতরণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, এ খাতে ঋণ বিতরণ না করলে জরিমানা গুনতে হবে তাই ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। কিন্তু প্রচারণ না থাকায় কৃষকরা স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার বিষয়টি জানেনা। এ কারণে ঋণ বিতরণ কম হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি ব্যাংকগুলোর শাখা কম আর যে কয়টি শাখা আছে সেগুলো বড় বড় শহরে অবস্থিত। ফলে গ্রামের প্রান্তিক কৃষকদের কাছে তারা ঋণ বিতরণ করতে পারেনা। তবে এ ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এসএই/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ