শিবচরে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

শিবচরে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি

bardশীত বাড়তে শুরু করার সাথে সাথেই মাদারীপুর জেলার শিবচরের চরাঞ্চল, হাওর, বিল, স্রোতহীন নদী ও বিভিন্ন জলাশয়ে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখির দল। শীত আরো বাড়লে প্রতি বছরের মতো এ বছরও অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখোর হয়ে উঠবে চরাঞ্চল ও জলাশয়।

অতিথি পাখির আগমনকে লক্ষ্য রেখে তৎপর হয়ে উঠেছে রাক্ষসে শিকারীরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বিগত দশ বছরের আগের তুলনায় বর্তমানে পাখি আসার সংখ্যা কমে গেছে। আগে শীত মৌসুমে যে পাখি আসতো বর্তমানে তার চেয়ে অনেক কম আসে শিবচরের জলাশয়গুলোতে। স্থানীয়রা জানান, অতিথি পাখি আসা শুরু করলেই পাখি শিকারীদের আনা-গোনা বেড়ে যায়।

পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ বেষ্টিত শিবচর উপজেলায় রয়েছে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ’র শাখা নদী। যে নদীগুলো সারা বছর প্রায় স্রোতহীন থাকে। স্থানীয়রা এই নদীকে বলে ‘মরা নদী’। মূলত এই নদীতে এবং পদ্মার চরাঞ্চলেই বেশি দেখা যায় অতিথি পাখি। শীতের শুরুতেই এরা আসতে থাকে দল বেধে। পুরো শীত পড়া পর্যন্ত আসতেই থাকে। অতিথি পাখির এই আগমন যেন প্রকৃতিতে বয়ে আনে ভিন্ন সৌন্দর্য। প্রচন্ড শীত থেকে বাঁচতে সূদুর সাইবেরিয়া থেকে এ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসে আশ্রয় নেয়া এসকল পাখি পেশাদারী শিকারীর নজরে পড়ে প্রাণ হারায়।

শিবচরের পদ্মা নদী বেষ্টিত চরজানাজাত এর চরাঞ্চল, মৃত ময়নাকাটা, বিল পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ নদের চর এবং শিরুয়াইল মরা নদীতে শীত মৌসুমে দেখা যায় নানা ধরনের অতিথি পাখি। এর মধ্যে সাদা বক, বালি হাঁস, পানকৌড়ি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও নাম না জানা অসংখ্য পাখি রয়েছে অতিথি পাখির দলে।

শিরুয়াইল মরা নদীর কাছে বসবাসরত বৃদ্ধ আবদাল মুন্সী বলেন, ‘এখন পাখি আসা কমে গেছে অনেক। তার পরও শীত মৌসুমে লাখ লাখ পাখি আসে। মাঝে মধ্যে শিকারীদের দেখা গেলেও এলাকাবাসীর জন্য তারা শিকার করতে পারে না। এই এলাকার লোকজন এই পাখিগুলোকে আপনজনের মতো মনে করে।’

তবে উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অতিথি পাখি দেখা যায় ময়নাকাটা খালে। যৎসামান্য পানির কচুরীপানায় আশ্রয় নিয়েছে  হাজার হাজার অতিথি পাখি। বাদামী ও হালকা সোনালী  রংয়ের অনেকটাই বেলে হাসের মতো দেখতে পাখিগুলো কচুরীপানার সাথে মিলেমিশে একাকার। ওদের কিচিরমিচির আলাপনের শব্দ না হলে বোঝার উপায় নেই এত পাখির সমারোহ।   হাজার হাজার বললেও ভুল হবে এ যেন লাখো অতিথি পাখির সমারোহ। তবে মৎস্য শিকারীদের অবাধ যাতায়াতের কারনে এসকল পাখিও চরম ঝূঁকিতে রয়েছে । মৎস্য শিকারীরা গোপনে কিছু পাখি নিধনও করছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারন করেছেন।

madaripur-2সরেজমিনে জানা যায়,  প্রতি বছর শীতে পৌরসভার কেরানিবাট থেকে, ঠেঙ্গামারা, বাহাদুরপুর পর্যন্ত ময়নাকাটা বিলের প্রায় ১ কিলোমিটারে নানান প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। কিন্তু এ বছর পাখির সংখ্যা সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে।  পৌর বাজারের প্রবেশমুখ কলেজ চৌরাস্তা ধরে ডানে গিয়ে কেরানীবাট এলাকায়  কিছুদুর এগুলোতেই পাখির কলকাকলি। মূল জনপদ থেকে কিছুটা নিরিবিলি ও মানুষের বিচরন কম হওয়ায় পাখীদের জন্য অভয়ারন্যস্থলে রুপ নিয়েছে নাব্যতা হারানো এই ময়নাকাটা খালের একাংশ। এক শ দু শ নয়। লাখো পাখির কলকাকলি, হরেক রকম পাখির সুর মুর্ছনা। এক সময়ের খরস্রোতা ময়নাকাটা খালের টিকে থাকা যৎসামান্য জলের কচুরীপানা ও সংলগ্ন এলাকার গাছ গাছালিতে আশ্রয় নিয়েছে পাখিগুলো। ঝাঁকে ঝাঁকে ডানা মেলে ছুটে বেড়ানো , কিচির মিচির আলাপন , ডানার ভরে জলে ঘুরে বেড়ানো ও কচুরীতে বাধা সংসার সতিই অপরুপ এক পরিবেশের উদ্ভব হয়েছে ময়নকাটায়। খাল জুড়ে থাকা কচুরীপানাতেই অধিকাংশ পাখি ঘর বেধেছে।  এ যেন প্রকৃতির এক অপরুপ সৌন্দর্য। স্থানীয়দের ভালবাসা ও শিকারীদের তেমন থাবা না পড়ায় পাখির সংখ্যা আরো বাড়ছে।

আরেক ছাত্র আরিফ বলে, শিকারী না থাকলেও যারা মাছ ধরে তারা মাঝে মাঝেই পাখি ধরে খায়। এই মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে পাখিগুলো নিরাপদ থাকতো।

স্থানীয় মোসলেম মিয়া বলেন, প্রতি বছর শীতেই ময়নাকাটায় হাজার হাজার অতিথি পাখি আসে। তবে এবার এসেছে কয়েক লাখ। কচুরীপানার উপরেই ওরা থাকে। কাউকে বিরক্ত করে না।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, কোন প্রকার ফাদসহ যেকোন উপায়ে অতিথি পাখি শিকার সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। কেউ অতিথি পাখি ধরলে তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নূন্যতম ৬ মাস পর্যন্ত সাজা দেয়ার বিধান রয়েছে।  আমরা ইতোমধ্যেই পাখিগুলোর নিরাপত্তার জন্য নজরদারি রেখেছি।

সাকি/bards

এই বিভাগের আরো সংবাদ