পুঁজিবাজারে সুদ মওকুফ ও ঋণ আবেদনের সময় বাড়ছে

DSE-fireপুঁজিবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুন:অর্থায়ন সুবিধার ঋণে বিনিয়োগকারীদের সাড়া পাচ্ছে না বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজ। তাই এ ঋণের জন্য আবেদন করার সময় বাড়ানো হচ্ছে। তবে এ কতদিন বাড়ানো হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আবেদনের সময় আগামি ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।

বুধবার শীর্ষ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুন:অর্থায়ন কমিটি। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ

বৈঠকে সময় বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে সময়সীমার কাছাকাছি গিয়ে।

 

বৈঠক শেষে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানিয়েছেন, পুনঃঅর্থায়নের আবেদনের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামি ৩০ নভেম্বর। এখনো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী আবেদন করছে না। তারা কেন,কী কারণে আবেদন করছে না বৈঠকে কমিটি তা জানার চেষ্টা করেছে। আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছি। আর এ জন্য আমরা আর কিছুটা সময় চেয়েছি। যাতে বিনিয়োগকারীদেরকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আবেদন করাতে পারি। এর প্রেক্ষিতে তারা সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।

 

উল্লেখ,ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার জন্য সকারের পক্ষ থেকে নয়শো কোটি টাকার পুন:অর্থায়ন তহবিল ঘোষণা করা হয়েছ। ইতোমধ্যে তার প্রথম কিস্তির তিনশো কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজকে ঋণ দেওয়া হবে। এর বিপরীতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ২০১১ সালের মার্জিন ঋণের সুদের অর্ধেক মওকুফ করবে। বাকী সুদসহ আসলকে একটি ব্লক হিসাবে রেখে তিন বছরে ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হবে। যেসব বিনিয়োগকারীর নিজস্ব মূলধন ছিল সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা শুধু তারাই এ সুবিধা পাবেন।

 

 

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের দেওয়া পুন:অর্থায়নে বিষয়ে সাড়ো পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম কিস্তির ৩শ কোটি টাকা বিতরণে সময় এক মাস বাড়ানোর জন্য বিএসইসির কাছে প্রস্তাব জানানো হয়েছে। তারা আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সময় বাড়াবেন।

 

তিনি বলেন, কেউ কেউ কিছু শর্ত শিথিলেরও পরমর্শ দিয়েছেন। আইসিবির কাছে পুন:অর্থায়নের জন্য ব্রোকারদের বেশ কিছু আবেদন জমা পড়েছে। আনুমানিক ৪০ কোটি টাকার মতো ঋণের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। দু’এক দিনের মধ্যে বাকি আবেদনগুলো জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

 

এদিকে সিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ সাজিদ হোসেন সংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে বিনিয়োগকারীদের কথা বিবেচনা করে কিভাবে পুন:অর্থায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায় সে বিষয়ে অলোচনা হয়েছে। আলোচনায় বিশেষভাবে বিনিয়োগকারীদের অনিহার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ সমস্যা দূর করতে ব্রোকারদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরণের প্রস্তাব বিএসইসির কাছে তুলে ধরা হযেছে। তারা এ সকল প্রস্তাবের সার্বিক দিক বিবেচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবে।’

 

এদিকে, সরকারের ইচ্ছায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার মুনাফা থেকে ৯শ’ কোটি টাকা পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগেকারীদের সুদ মওকুফের জন্য দিতে রাজি হয়। পরবর্তীতে গত ১৯ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা জারি করে। এনিয়ে ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও আইসিবির মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়। এ তহবিলের মেয়াদ তিন বছর। অর্থাৎ, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

উল্লেখ, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার জন্য সকারের পক্ষ থেকে নয়শো কোটি টাকার পুন:অর্থায়ন তহবিল ঘোষণা করা হয়েছ। ইতোমধ্যে তার প্রথম কিস্তির তিনশো কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারহাউজকে ঋণ দেওয়া হবে। এর বিপরীতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ২০১১ সালের মার্জিন ঋণের সুদের অর্ধেক মওকুফ করবে। বাকী সুদসহ আসলকে একটি ব্লক হিসাবে রেখে তিন বছরে ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হবে। যেসব বিনিয়োগকারীর নিজস্ব মূলধন ছিল সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা শুধু তারাই এ সুবিধা পাবেন।

 

এদিকে, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফ সুবিধা যেসব শর্ত দেয় সেগুলো হলো- ঋণের জামানত হিসাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক বা স্টক-ব্রোকারকে করপোরেট গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে, ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করতে পারবে এবং নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ( মার্চেন্ট ব্যাংক/ স্টক ব্রোকার) নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে।