খাদ্য শস্যের মজুদ কমেছে ২৪ শতাংশ
রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

খাদ্য শস্যের মজুদ কমেছে ২৪ শতাংশ

food mojudবাংলাদেশের সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুদ গত তিনমাসে ২৪ শতাংশ কমে গেছে। খাদ্যমন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত গুদামে খাদ্যসংগ্রহের পরিমান ছিল ৯ দশমিক ৬৯ লাখ টন । অথচ সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এর পরিমান ছিল ১২ দশমিক ৬৬ লাখ টন।

 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, যে কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা হিসেবে সরকারিভাবে কমপক্ষে ৬০ দিনের খাদ্য মজুদ থাকা প্রয়োজন। আমাদের জনগোষ্ঠীর একদিনের খাদ্য চাহিদা প্রায় ৪৬ হাজার মেট্রিক টন। সেই হিসাবে আমাদের দেশে এক মাসে খাদ্যের প্রয়োজন প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন।

অথচ সরকারের এই মজুদের পরিমান  ক্রমশ কমছে। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বোরো মৌসুমে ১০ লাখ টন চাল ক্রয় করার টার্গেট ছিল সরকারের। যেখানে ৮ দশমিক৩ লাখ টন কিনতে সক্ষম হয়েছিল সরকার । যদিও চলতি আমন মৌসুমে সরকারের লক্ষ্য ২ লাখ টন খাদ্য সংগ্রহ করা, কিন্তু মাঠপর্যায়ে থেকে এই খাদ্য শস্য সরকারি গুদামে পৌঁছাতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হবে বলে মনে করছেন তারা।

হরতাল, অবরোধ ইত্যাদির কারণে বাংলদেশের সরকারি গুদামে খাদ্য সংগ্রহের কাজ আরও ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অবশ্য, চলতি অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসের মধ্যে পুরো অর্থবছরের জন্য টার্গেটের দুই তৃতীয়াংশ গমশস্য আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরে গম আমদানির জন্য সরকারের বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ২০৩ কোটি টাকা ।ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ১৫৫৭ কোটি টাকার সাড়ে ছয় লাখ টন গম সংগ্রহের জন্য বলা হয়।

তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা মধ্যে দিয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের মাধ্যেমে সরকারের টার্গেট কতটা পুর্ণ হবে সেবিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন।

তারা জানান, এ অবস্থার মধ্যে দিয়ে কৃষকেরা একদিকে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য বাজারে আনতে পারেনি। অন্যদিকে উৎপাদন খরচের জন্য ব্যাংক থেকে টাকা উঠাতে পারেনি।

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দেশীয় খাদ্যশস্য সংগ্রহ সবচেয়ে বেশি হয় বোরো মৌসুমে। যেহেতু কৃষকরা যথাসময়ে ডিজেল, সার পায় নি, তাই বোরো উৎপাদনও আশানুরুপ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে না ।

তাছাড়া উত্তরাঞ্চলের গ্রামএলাকা গুলোতে ডিজেল ও ইউরিয়ার দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ঠিকমত জমি চাষ করতে পারেনি। ডিজেলের দাম সরকারিভাবে লিটার প্রতি ৬৮ টাকা নির্ধারিত থাকলেও  কিছু কিছু স্থানে তা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা দরে। আবার ইউরিয়ার দাম ১৪ টাকা থাকলেও তা বিক্রি হয়েছে ২৪ টাকা দরে । ফলে উৎপাদন খরচ মেটাতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়েছে।

এমন অবস্থায় গম আমদানির পরিমান চলতি অর্থবছরে প্রথম পাচ মাসে ৪৬ শতাংশ বেড়ে গেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, জুলাই থেকে নভেম্বরে গম আমদানির পরিমান ছিল ১১ দশমিক ৫৫ লাখ টন। অথচ গত বছরের একই সময়ে গম আমদানির পরিমান ছিল ৭ দশমিক ৯ লাখ টন।

মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকায় সরকার গুদাম সমৃদ্ধ করতে গম আমদানি বৃদ্ধি করেছে।

অবশ্য, আমন মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় ধান আমদানি করা লাগবে না । জুলাই-নভেম্বরে চাল আমদানি ছিল ৯৮৮ টন যা গতবছরে ছিল ১৩ হাজার চার’শ টন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ