আইপিও আবেদনের সঙ্গে টাকা জমা দিতে হবে না

বিএসইসি
বিএসইসি লোগো

BSECপুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণ প্রস্তাব বা আইপিও’র আবেদন পদ্ধতি সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তৈরি করা হয়েছে নতুন পদ্ধতির খসড়া প্রস্তাবনা। এ পদ্ধতি কার্যকর হলে আইপিওতে আবেদনের সময় আবেদনকারীকে সঙ্গে কোনো টাকা জমা দিতে হবে না। লটারিতে তিনি বিজয়ী হলে তখন অর্থ পরিশোধ করলেই চলবে।বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেই কেবল আলোচিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। আগামি সপ্তাহে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বিএসইসি।

জানা গেছে, নতুন পদ্ধতি চালু হলে আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে।
আবেদনের সঙ্গে টাকা জমা দেওয়া এবং লটারিতে অকৃতকার্য হলে ওই অর্থ ফেরত পাওয়ার হাঙ্গামা থেকে মুক্তি পাবেন বিনিয়োগকারীরা। এই পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট করা অর্থ জমা থাকলেই চলবে। লটারিতে আবেদনকারী জয়ী হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সেখান থেকে টাকা চলে যাবে শেয়ার ইস্যুকারী কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে।অন্যদিকে আগাম টাকা জমা নেওয়া হবে না বলে লটারিতে অকৃতকার্য হলে তা ফেরতেরও প্রয়োজন পড়বে না।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের
(বিএফটিএন) আওতায় আইপিও’র নতুন পদ্ধতিটি কাজ করবে।এ বিষয়ে প্রাথমিক কাজ গুছিয়ে এনেছে বিসইসি।

সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি কারণে বিএসইসি আইপিও আবেদন পদ্ধতি পরিবর্তন করা খুব
জরুরী বলে মনে করছে।প্রথমত, বর্তমান পদ্ধতিতে আবেদনকারী ও ইস্যুয়ার
কোম্পানি-উভয়কে টাকা জমা দেওয়া ও ফেরত বিষয়ে বাড়তি বিড়ম্বনা পোহাতে হয়।

দ্বিতীয়ত: আইপিওর লটারি অনুষ্ঠানের পর রিফান্ড ওয়ারেন্ট না হওয়া পর্যন্ত
আবেদনকারীদের টাকা আটকে থাকে। একেকটি কোম্পানির আইপিওতে আটকে যায় ৪/৫ শ কোটি টাকা। তাই এক সঙ্গে একাধিক আইপিও বাজারে এলে সেকেন্ডারি বাজারে তারল্যের ক্ষেত্রে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তৃতীয়ত: আইপিও লটারিতে অকৃতকার্য বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। নতুন পদ্ধতিতে এ খরচ একেবারেই শুন্যের কাছে নেমে আসবে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে বিএসইসির সদস্য মো: আরিফ খান বলেন, তারা আইপিও আবেদন পদ্ধতি সংস্কারের কথা ভাবছেন, যাতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরো সহজ হয়; তাদের ভোগান্তি দূর হয়। তবে নতুন পদ্ধতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজী হননি তিনি।