‘৯৫ ভাগ কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে’

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থী সালাউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ৯৫ ভাগ কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সালাউদ্দীন আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে আজ পর্যন্ত কোনও নির্বাচন করতে পারেনি। তাই আজকের নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না বলেই আমি মনে করি। বেশিরভাগ কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদেরকে বের করে দিয়েছে। এজন্য ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ কেন্দ্রে আমাদের এজেন্ট নেই।

তিনি বলেন, এটি একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন। তারা যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করেছে এতে করে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। তবুও আমি শেষ পর্যন্ত দেখব এবং শেষ পর্যন্ত থাকব।

বিএনপি প্রার্থী জানান, ৫০নং ওয়ার্ডের ৯ নম্বর কেন্দ্র যাত্রাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিএনপির এজেন্টরা গেলে তাদের স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে জোর দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।

এছাড়াও ৬৮নং ওয়ার্ডের হাজী আদর্শ মোয়াজ্জেম আলী হাই স্কুল, সানারপাড় রুস্তম আলী হাইস্কুল ও ফুলকলি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬৬নং ওয়ার্ডের ভ্যামুইল আইডিয়াল স্কুল, সারুলিয়া ডগাইর দারুস সুন্নত ফাজিল ফাদ্রাসা, ৭০নং ওয়ার্ডে ১৮৫নং কেন্দ্র (আমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), দেল্লা ও ৬৬নং ওয়ার্ডের ১৪৮ ও ১৪৯ কেন্দ্র থেকে বিএনপির সব পোলিং এজেন্টদের পুলিশের সামনেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন সালাউদ্দীন।

এদিকে ৪৮নং ওয়ার্ডের সব কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেছেন বিএনপি প্রার্থী। এছাড়াও নৌকা সমর্থকরা কেন্দ্রে তাদের দাঁড়াতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ৫০ নম্বর ওয়ার্ড ধানের শীষের সমন্বয়কারী মিতু আক্তার।

শনিবার সকাল ৯টায় এ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ১৪টি ওয়ার্ড ও ডেমরা, যাত্রাবাড়ী এবং কদমতলী থানার কিছু অংশ নিয়ে এই আসন বিস্তৃত। এসব এলাকার ১৮৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে।

ভোটগ্রহণ শুরু হলেও কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি তেমন দৃশ্যমান নয়। কোনও কোনও কেন্দ্রে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারকে ভোট দিতে দেখা যায়নি।

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. কাজী মনিরুল ইসলাম, বিএনপির সালাউদ্দীন আহমেদ, জাতীয় পার্টির মীর আব্দুর সবুর, গণফ্রন্টের এইচ এম ইব্রাহিম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আনছার রহমান শিকদার ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আরিফুর রহমান।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা গত ৬ মে মারা যাওয়ায় ঢাকা-৫ আসনটি শূন্য হয়।

অর্থসূচক/কেএসআর