বিবাদ মেটাতে মহিষকেই মালিক খোঁজার দায়িত্ব দিল পুলিশ

একটি মহিষের মালিকানা নিয়ে বচসা বেঁধেছিল দুই ব্যক্তির মধ্যে। বিষয়টি থানা পর্যন্তও গড়ায়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশও ধন্দে পড়ে যায়। অবশেষে আসল মালিক খুঁজে নেওয়ার জন্য মহিষকেই দায়িত্ব দেয় পুলিশ। অভূতপূর্ব এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের কনৌজে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হাসির রোল উঠেছে নেটদুনিয়ায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার কনৌজের রাসুলাবাদ এলাকার এক ব্যক্তি দুটি মহিষ বিক্রি করতে স্থানীয় পশু মেলায় গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর আলি নগরের বীরেন্দ্র নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। ওই মহিষগুলিকে নিজের বলে দাবি করতে থাকেন বীরেন্দ্র। অন্যদিকে ওই ব্যক্তি জানান তিনি মহিষগুলি জলেশ্বরের বাসিন্দা ধর্মেন্দ্রের কাছ থেকে কিনেছেন। এরপরই স্থানীয় তিরওয়া থানায় গিয়ে ধর্মেন্দ্রের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেন বীরেন্দ্র। তার দাবি ছিল, ধর্মেন্দ্র ওই মহিষগুলি তার বাড়ি থেকে চুরি করেছেন।

থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্মেন্দ্রকে ডেকে পাঠায় পুলিশ। ধর্মেন্দ্র এসে নিজেকে পুরোপুরি নির্দোষ বলে দাবি করার পাশাপাশি মহিষগুলি রাসুলাবাদের এক ব্যক্তিকে ১৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন বলে জানান। উভয়পক্ষের কথা শুনে প্রথমে চিন্তায় পড়ে যান তিরওয়া থানার সিনিয়র সাব ইনস্পেক্টর বিজয়কান্ত মিশ্র। তারপর কোনও উপায় না দেখে মহিষকেই মালিক খোঁজার দায়িত্ব দেন।

এর জন্য বীরেন্দ্র ও ধর্মেন্দ্রকে মহিষদুটিকে ডাকতে বলেন। মহিষগুলি ধর্মেন্দ্রর ডাকে সাড়া দিলেও বীরেন্দ্রকে পাত্তা দেয়নি। বিষয়টি দেখে ধর্মেন্দ্রকে মহিষের মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় পুলিশ।

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এই কাণ্ডের কথা প্রকাশ্যে আসতেই হাসির রোল উঠেছে নেটদুনিয়ায়। বিচারের প্রক্রিয়া যদি এত সহজই হয় তাহলে আইন-আদালতের দরকার কী বলেও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। তবে এর মধ্যেও একটি বিষয় সকলকে অবাক করেছে, পশু হলেও তার পালকের মায়া কখনো সে ত্যাগ করতে পারে না। তাইতো তার ডাকে সাড়া দেয় মহিষ দুটি।

অর্থসূচক/কেএসআর