‘পঁচা’ কোম্পানির শেয়ারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা

পুঁজিবাজারে ‘পঁচা’ কোম্পানির শেয়ারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা। যে শেয়ারের যত দাম কম, সম্প্রতি সেই শেয়ারে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ১০ টাকার কম দামের শেয়ারের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। কম বিনিয়োগে বেশি লাভ করতে তারা এই পথ বেছে নিচ্ছে বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে। এ বাজারে বিভিন্ন চক্র অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উচিত এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা। অতিরিক্ত ‍মুনাফার আশায় তাদের দুর্বল মৌলভিত্তির জেড গ্রুপের শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত হবে না। এতে মুনাফার বদলে উল্টো লোকসানের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

আজ বৃহস্পতিবার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬৬ শতাংশের বেশি বিনিয়োগকারী ১০ টাকার কম দামের শেয়ার ক্রয় করেছেন। যে কারণে কম দামের শেয়ারের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেশি বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। মূলত কম বিনিয়োগ করে বেশি মুনাফা লাভের আশায়ই এসব শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন নতুন ও পুরোনো সব ধরনের বিনিয়োগকারী। কয়েক দিন ধরে বাজারে এমন চিত্রই লক্ষ করা যাচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের এমন প্রবণতার বিষয়ে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা বলেন, আমাদের বাজারে সবচেয়ে বেশি কাজ করে ‘হার্ডিং ইফেক্ট’ প্রবণতা। একদল বিনিয়োগকারী দাম বাড়বে এ গুজব ছড়িয়ে দেয় আর অন্যরা সবাই তার পেছনে দৌড়াতে থাকে। এ সুযোগে একটা গোষ্ঠী ভালো মুনাফা তুলে নিলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ, তাঁরা কেন দাম বাড়ছে, বেশির ভাগ সময় তা খতিয়ে দেখেন না। আমাদের বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর তুলনায় ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারী বেশি হওয়ায় এ ধরনের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

এদিকে আজ সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের ইতিবাচকতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে আজ ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরীয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১১২৬ ও ১৭১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৮৭৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৪১ কোটি টাকা কম। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৯১৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। এদিন ডিএসইতে ৩৫৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯৪টির, কমেছে ১০৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।

এদিকে আজ দাম বাড়ার শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির মধ্যে ৭টি কোম্পানি ছিল যাদের শেয়ারদর ১০ টাকার কম। এবং প্রায় সব গুলো শেয়ারের দামই ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে।আজ মার্কেটে দাম দাম বাড়ার শীর্ষে ছিল এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড।আজ ফান্ডটির দর বেড়েছে ৯০ পয়সা বা ১০ শতাংশ। কোম্পানিটি সর্বশেষ ৯ টাকা ৯০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। এদিন ফান্ডটি ৭১৬ বারে ৫৫ লাখ ২৯ হাজার ৫০৩টি শেয়ার লেনদেন করে। যার বাজার মূল্য ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জিকিউ বলপেন লিমিটেড। আজ কোম্পানিটির দর বেড়েছে ১৭ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯.৯৮ শতাংশ। এদিন কোম্পানিটি সর্বশেষ ১৯৪ টাকা দরে লেনদেন হয়। কোম্পানিটি ৮৮৫ বারে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৮৪টি শেয়ার লেনদেন করে। যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

গেইনারের তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। আজ কোম্পানিটির দর ৮০ পয়সা বা ৯.৮৮ শতাংশ বেড়েছে। আজ কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ৮ টাকা ৯০ পয়সা দরে লেনদেন হয়।

গেইনার তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হচ্ছে- ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইয়াকিন পলিমার ও ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

এদিকে খাতভিত্তিক লেনদেনে চোখ রাখলে প্রায় আগের দিনের চিত্র পরিলক্ষিত হয়। এদিনও লেনদেনে এগিয়ে ছিল বিমা খাতের কোম্পানি। গতকাল এই খাত থেকে সবচেয়ে বেশি মুনাফা তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা, যার জের ধরে মোট লেনদেনে এগিয়ে যায় এই খাত। দিন শেষে মোট লেনদেনে এই খাতের অবদান দেখতে পাওয়া যায় ৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ। পরের অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। মোট লেনদেনে গতকাল এই খাতের কোম্পানির অংশগ্রহণ ছিল ১৩ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানির গতকাল মোট লেনদেনে অংশগ্রহণ চোখে পড়ে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বাকি খাতগুলোর মধ্যে উজ্বল দেখা যায় মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে। গতকাল মোট লেনদেনে এই খাতের অবদান ছিল ১০ দশমিক ২২ শতাংশ।

অর্থসূচক/এমআরএম