শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home App Home Page বাড়ছে লাশের মিছিল, আলোচনায় নারাজ আর্মেনিয়া-আজারবাইজান

বাড়ছে লাশের মিছিল, আলোচনায় নারাজ আর্মেনিয়া-আজারবাইজান

বাড়ছে লাশের মিছিল, আলোচনায় নারাজ আর্মেনিয়া-আজারবাইজান

কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বুধবারও দুই দেশ ক্রমাগত শেলিং করে গিয়েছে। নাগর্নো-কারাবাখের বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। এখনো পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে বহু সাধারণ মানুষও আছেন। এরই মধ্যে রাশিয়া দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের সরকার তাতে রাজি হয়নি।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও দুই দেশই আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করেছে। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, তারা আর্মেনিয়ার সঙ্গে কোনও আলোচনা করবেন না। তবে আর্মেনিয়া নাগর্নো-কারাবাখ থেকে সরে গেলেই তারা শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। তার আগে পর্যন্ত যুদ্ধ প্রক্রিয়া জারি থাকবে। আর্মেনিয়াকে শিক্ষা দেওয়া হবে।

একই ধরণের কথা বলেছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান। তিনি বলেছেন, সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় আজারবাইজানের সঙ্গে কোনও ধরণের আলোচনার সম্ভাবনা নেই। আজারবাইজান তাদের এলাকা দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের উচিত জবাব দেওয়া হবে।

দীর্ঘ দিন ধরে নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের দ্বন্দ্ব। ১৯৮০’র দশকের শেষদিকে কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এ সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। বর্তমানে নাগর্নো-কারাবাখে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশাসনও রয়েছে।

নগরনো-কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রোববার সকাল থেকে দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ৮৪ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছে। কারাবাখ অঞ্চলের অবস্থান আজারবাইজানের ভেতরে হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, ডিডব্লিউ, পার্সটুডে

 

অর্থসূচক/এএইচআর