দিনদুপুরে থানার পাশে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই

যশোরে দিনে-দুপুরে থানার একশ গজের মধ্যে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছুরিকাঘাত ও বোমার আঘাতে টাকা বহনকারী দুইজন আহত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পাশে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবি) সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত এনামুল হককে (২৫) যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর খুলনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তার সাথে থাকা ইমনকে (২৪) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এনামুল হক শহরের বকচরের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

ঘটনার সময় অদূরে টহল পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা ছিনতাইকারীদের ধরতে কোন ভূমিকা রাখেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের দাবি, তারা ছিনতাইকারীদের পালিয়ে যাবার ফুটেজ পেয়েছেন। তাদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে এনামুল হকসহ দুজন একটি মোটরসাইকেলে করে তাদের পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১৭ লাখ টাকা ইউসিবিএল ব্যাংকে জমা দিতে যান। ব্যাংকের সামনে পৌঁছালে তিন যুবক ছুরিকাঘাত করে এনামুলের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে তারা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরি মারে। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তারা একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন এনামুলকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত ইমনসহ স্থানীয় দোকানদাররা অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অদূরে টহল পুলিশের গাড়ি দাড়িয়ে থাকলেও তারা ছিনতাইকারীদের ধরতে কোন ভূমিকা রাখেননি।

তবে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ছিনতাইকারীদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুর রশিদ ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আহমেদ তারেক শামস জানিয়েছেন, বুক-পেট ও হাতে ছুরিকাহত এনামুলের অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ছিনতাইয়ের ঘটনাটি তাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তারা আহত এনামুলের সঙ্গী ইমনকে জিঙ্গাসাবাদ করতে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। তবে তাকে হেফাজতে নেওয়ার ব্যাপারে পুলিশের কোন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার (এসপি) আশরাফ হোসেন বলেন, ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা গেছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

অর্থসূচক/কেএসআর