এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: আরেক আসামি গ্রেপ্তার

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের মামলার ৬ নং আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকায় মাহফুজের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কানাইঘাট থানা পুলিশ।

এ তথ্য নিশ্চিত করে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামছুদ্দোহা জানান, ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন মাসুম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে গতকাল দিবাগত রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন দুজন র‍্যাব হেফাজতে আছে।

এদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর ও ৫ নম্বর আসামি রবিউলকে গতকাল পাঁচ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে এমসি কলেজে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁদের জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তারা। পরে ওই গৃহবধূকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রলীগকর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী। আসামিরা হলেন- সাইফুর রহমান (২৮), শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), তারেক (২৮), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান মাছুম (২৫)। তাঁদের মধ্যে সাইফুর রহমান বালাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা, রনির বাড়ি হবিগঞ্জে, তারেক সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা, অর্জুনের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আর মাহফুজুর রহমান মাছুমের বাড়ি সিলেটের সদর উপজেলায়। মামলার এই ছয় আসামি ছাত্রলীগের কর্মী।

এর আগে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি এম সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি রামদা, একটি ছোরা ও জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়।

অর্থসূচক/এএইচআর