এরশাদ মুক্তির হরতালে অচল রংপুর
শনিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » রংপুর

এরশাদ মুক্তির হরতালে অচল রংপুর

FARUK Rangpur Photo 19.12.13জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মুক্তির দাবিতে জাতীয় পার্টির এরশাদ ঘোষিত নতুন আহ্বায়ক কমিটির ডাকে দুইদিন ব্যাপী হরতালেরি আজ শেষ দিন। হরতালে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও নগরীসহ আশেপাশে বাই-সাইকেল ও রিক্সা চলাচল করতে দেখা গেছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে সাধারণ মানুষ অবস্থান নেয়।

এদিকে জেলা দোকান মালিক সমিতির অনুরোধের প্রেক্ষিতে আজকের সকাল-সন্ধ্যার হরতালের সময় কমিয়ে তা বেলা ২টা পর্যন্ত ঘোষণা করে জেলা জাতীয় পার্টির নতুন আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

ভোরেই রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার এমপি, জেলা কমিটির সদস্য সচিব মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মহানগর সদস্য সচিব এসএম ইয়াসিরের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী নগরীর শাপলা চত্ত্বর, খামারপাড়া, লালবাগ, সিটিবাজার এলাকা, জুম্মাপাড়া পাকারমাথা, পার্কের মোড়, ধাপ মেডিকেল মোড় শিমুলবাগসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে হরতালের সমর্থনে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করে।

লালবাগে এক পথসভায় জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, এরশাদ স্যারকে মুক্ত করে না দেয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাবো। এসময় তিনি এরশাদের জন্য শুক্রবার সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও শনিবার থেকে জেলার আট উপজেলায় পর্য়ায়ক্রমে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ পালনের কর্মসূচীর ঘোষণা করেন।

মোস্তফা বলেন, জাতীয় পার্টিতে থাকা কিছু চিহ্নিত সুযোগ সন্ধানীরা সরকারের সাথে আতাঁত করে দল ভাঙ্গনের জন্য আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছ্।ে তারা রওশনপন্থীদের ইঙ্গিত করে বলেন, এরশাদ  স্যারের নির্দেশ অমান্য করে সরকারের মাধ্যমে তাকে আটক রেখে পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরশাদকে মুক্ত জীবনে ফিরে আনাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সরকার তাকে বিদেশে পাঠিয়ে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করে বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানি করে আন্দোলন দমানো যাবে না। এটা রংপুরবাসীর সন্তান এরশাদ মুক্তির আন্দোলন।

এদিকে হরতালের কারণে রংপুর মহানগরীসহ সব কিছুই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। অবরোধের কারণে গতকাল থেকেই বন্ধ হয়ে আছে দুরপাল্লা, আন্ত জেলা ও উপজেলাগামী সকল ধরনের ভারী মাঝারী যানবাহন। অন্যদিকে এরশাদের মুক্তির দাবীতে আহুত হরতালে কিছু খাবার ও ঔষুধের দোকান ছাড়া অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। রাস্তায় নেমে এসেছেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ছাড়াও এরশাদ ভক্ত মানুষ। কিছু কিছু স্থানে মহিলাদেরকে পিকেটিং করতে দেখা গেছে।

এদিকে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নগরীতে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশসহ বিপুল পরিমান আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আছে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট। আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল অব্যাহত আছে পুরো নগরীতে।

এদিকে গতকাল আঠারো দলীয় জোট রংপুর মহানগরীর দর্শনা মোড় এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও হাট বাজারে তারা অবরোধের সমর্থনে আলাদা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

কোতয়ালী থানার ওসি সৈয়দ সাহাবুদ্দিন খলিফা জানান, কেউ নাশকতা করতে চাইলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এরশাদ মুক্তির ইস্যুতে রংপুর জাতীয় পার্টির রওশনপন্থী গ্রুপের সাথে এরশাদপন্থী গ্রুপের সংঘর্ষের পর সদ্য বিলুপ্ত রওশনপন্থী গ্রুপ বুধবার সকাল সন্ধ্যা ১২ ঘন্টা এবং এরশাদপন্থী গ্রুপ বুধ ও বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘন্টা হরতালের ডাক দেয়। তবে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে আজকের পূর্নদিবসের হরতালের সময় কমিয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত পালনের আহবান করেন তারা।

এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ