কারসাজি নয়, সচেতনতা বাড়াচ্ছি: ডিসিশন মেকার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুককেন্দ্রিক কিছু গ্রুপ নানাভাবে পুঁজিবাজারে কারসাজি করছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সম্প্রতি এসব গ্রুপ ও পেজের তৎপরতা বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে গ্রুপগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে বিএসইসি। আর এই তালিকা থেকে ডিসিশন মেকার নামের একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা।

বিএসইসির অভিযোগ, ডিসিশন মেকার বাজারে কারসাজির চেষ্টা করছে।

তবে গ্রুপটির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, বাজার কারসাজি নয়, তারা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, যাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমে আসে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার অর্থসূচকে ‘ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার কারসাজি, কঠোর ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এ রিপোর্টে ফেসবুক গ্রুপগুলোর ব্যাপারে বিএসইসির অবস্থান তুলে ধরা হয়। ওই রিপোর্টে ডিসিশন মেকার নামের গ্রুপটির বিরুদ্ধে বিএসইসির ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এর প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার গ্রুপটির এডমিন ও স্বত্ত্বাধিকারী এম তালুকদার ডিএম অর্থসূচকে পাঠানো এক ব্যাখ্যায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

ডিসিশন মেকার গ্রুপের দবি, তারা কোনো প্রকার কারসাজির সাথে জড়িত নয়। তারা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করে থাকেন।

ডিসিশন মেকার গ্রুপের এডমিন ও স্বত্ত্বাধিকারী এম তালুকদার ডিএম বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসকে বিশ্বজুড়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। এমনকি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রতিদিন সকালে ট্রেড শুরু হওয়ার আগেই সাধারণ ইনভেস্টরদের সচেতন করার জন্য নিউজ পাবলিশ করা হয় যাতে লিখা থাকে টেকনিক্যাল ও ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস করে ইনভেস্ট করার জন্য। কোন প্রকার গুঁজব নির্ভর ইনভেস্টমেন্ট না করার জন্য। আর আমরা কাজ করছি সেই টেকনিক্যাল এনালাইসিস নিয়ে। সাধারণ বিনিয়োগকারীকে উৎসাহিত করছি বাজার সম্পর্কে জানার জন্য। এনালাইসিস করার জন্য। আমরা যে সকল পোষ্ট ডিসিশন মেকার গ্রুপে দেওয়া দিয়ে থাকি তা শতভাগ টেকনিক্যাল এনালাইসিস বেইজ। টেকনিক্যাল এনালাইসিস সারা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। বি এস ই সির বিভিন্ন ধরনের এওয়ারন্যাস প্রোগ্রাম হয়ে থাকে সেখানে বলা হয়ে থাকে এনালাইসিস করে ইনভেস্টমেন্ট করতে। আমরা সেই এনালাইসিসটি করছি।

তিনি বলেন, আমরা যে সকল এনালাইসিস করে পোষ্ট দেই তা কেবল মাত্র সম্ভাব্য সাপোর্ট রেজিস্টেন্স। ওভারবট, ওভারসোল্ট নির্দেশনা করে। আমাদের এনালাইসিস গুলা সঠিক আবার ভুল হতে পারে। কিন্তু আমাদের এনালাইসিস ম্যাক্সিমাম সঠিক হচ্ছে যা থেকে হাজারও বিনিয়োগকারী টেকনিক্যাল এনালাইসিস শিখতে আগ্রহী হচ্ছেন এবং শিখছেন। আমাদের এনালাইসিস দেওয়ার পর ইনডেক্স বাড়লো নাকি কমলো তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

এম তালুকদার ডিএম বলেন, আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি কারও পক্ষেই বাজার উঠানামা কনট্রোল করার ক্ষমতা নেই। সেখানে আমি খুবই নগণ্য মানুষ। আমার প্রতিটি লেখা প্রতিটি লাইনের টেকনিক্যাল ব্যাখ্যা আছে। যেমন আমার যে পোষ্টটি আপনাদের নিউজে এটাচ করে দিয়েছেন সেখানে আনোয়ার ছিলো, আনোয়ার সম্পর্কে আমার দেওয়া এনালাইসিস- আমি বলেছিলাম ট্রেলিং স্টপ ১২০টাকা। এর মানে হচ্ছে আনোয়ার ১২০ টাকার নিচে নামলে তার ট্রেন্ড পরিবর্তন হবে। আমি চিত্রটি এটাচ করে দিলাম। এখানে বক্স ড্র করা হয়েছিলো যা সাপোর্ট পয়েন্ট ছিলো ১২০টাকা। এখানে আমার এই পোষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য একটাই ছিলো অনেকেই এই স্টকের এনালাইসিস জানতে চেয়েছিলেন যা আমি আমার টেকনিক্যাল ভিউ শেয়ার করেছিলাম। এই ষ্টকের দাম বাড়া বা কমার সাথে আমার কোন প্রকার সম্পর্ক নেই।

তাছাড়া ইনডেক্স ৫১৪০ বলেছিলাম সম্ভবত হাই পয়েন্ট এবং এবারের এই মুভমেন্টটাই ইন্ডিং পয়েন্ট। তার ব্যাখ্যা দিচ্ছি

১) ইনডেক্সের আর এস আই ছিলো ৮৫। টেকনিক্যালি আমরা জানি যে আর এস আই যখন ৭০ এর উপরে যায় তখন তা ওভারবট হয়।


পড়তে পারেন-

ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার কারসাজি, কঠোর ব্যবস্থা নেবে বিএসইসি


২) ইনডেক্স এখানে ডাইভারজেন্স ক্রিয়েট করেছিলো। ডাইভারজেন্স একটা স্টকের রিভার্সাল নির্দেশনা দেয়।

৩) এলিয়ট ওয়েব অনুস্বারে এইটা ছিলো ওয়েভ ৫। ৫ নাম্বার ওয়েভে ইন্ডিং ডায়োগনাল প্যাটার্ন ফর্ম করছিলো। তাই আমি এখানে ইনডেক্স এর ইন্ডিং মুভমেন্ট উল্লেখ করেছিলাম।

৪) প্রাইজ একশনে যা ক্যান্ডেলস্টিক দেখলে বুঝা যায় মুভমেন্ট উইক হয়ে আসছিলো, যা ইন্ডিকেট করছিলো সে আর উপরে যেতে রাজি নয়। এর বাইরে আমার কোনো প্রকার উদ্দেশ্য ছিলো না। কাকতালীয়ভাবে আমার

এনালাইসিসটি সঠিক হয়েছে। কিন্তু তা ভুলও হতে পারতো।

ডিসিশন মেকার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ডেইলি ইওডি ডাটা সহ যেগুলা ডিএসই এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় তা একত্র করে ডাটা প্রোভাইড করে, যাতে করে বিনিয়োগকারীরা সেই ডাটা কে বিশ্লেষণ করে ট্রেডিং ডিসিশন নিতে পারে। এখানে আমাদের ম্যানিপুলেশন করার কোন উদ্দেশ্য নেই। ইভেন সম্পূর্ণ মার্কেটকে ম্যানুপুলেশন করা যায় তা আমি বিশ্বাস করি না।

তারপরেও যদি মনে হয় ডিসিশন মেকার কোনো প্রকার কারসাজির সাথে জড়িত তাহলে আমাকে শুনানীতে ডাকার অনুরোধ রইলো। আমি আত্মপক্ষ সমর্থন করে আমার সকল বিষয় তুলে ধরবো।