শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২০
Home App Home Page খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক অকার্যকর: ইফতেখারুজ্জামান

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক অকার্যকর: ইফতেখারুজ্জামান

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক অকার্যকর: ইফতেখারুজ্জামান

বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে অকার্যকর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার (২২সেপ্টেম্বর) ‘ব্যাংকিং খাত তদারকি ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশ ব্যাংকের সুশাসনের সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ বছরের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪১৭ শতাংশ। ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণ ছিলো ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। যা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮ ৮কোটি টাকা। অর্থাৎ খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১২ শতাংশ। প্রতিবছরে গড়ে বৃদ্ধি ৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

আইএমফ’র তথ্য মতে, প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৪০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। আর অবলোপন কৃত খেলাপি ঋণ দাড়িয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ কমানো এবং ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও তা কার্যকর না করে বার বার ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ ও পুনর্গঠরে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিশাল এই খেলাপি ঋণ বর্তমান ব্যাংকখাতে অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্দেশনায় খেলাপি ঋণের মাত্র দুই শতাংশ ফেরত দিয়ে পুনঃতফসিলিকরণের মাধ্যমে ১০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের সুযোগ প্রদান করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, এভাবে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায় না করেই গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কমিয়ে গত মার্চ পর্যন্ত ৯২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ হিসেবে দেখানো হয়। ঋণখেলাপিদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান ও খেলাপি ঋণ কম দেখাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন সত্ত্বেও গত জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯৬ হাজার ১১৭ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের কারণে সৃষ্ট মূলধন ঘাটতি মেটাতে ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার কর্তৃক ১২ হাজার ৪৭২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়। বাংলাদেশে এই বিপুল পরিমাণে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রধানত দুই ধরনের সুশাসনের চ্যালেঞ্জ লক্ষ্য করা যায়। এক হচ্ছে বাহ্যিক প্রভাব যার মধ্যে রয়েছে আইনি সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং ব্যবসায়িক প্রভাব। আর অপরটি অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ, যার মধ্যে রয়েছে তদারকি সক্ষমতায় ঘাটতি, নেতৃত্বের সক্ষমতায় ঘাটতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় ঘাটতি এবং তদারকি কাজে সংঘটিত অনিয়ম দুর্নীতি।

ব্যাংক মালিকদের এক চক্র গড়ে উঠেছে তারাই রাতারাতি আইনকানুন পরিবর্তন করে ফেলছে- এমন প্রশ্নে জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সামনে খুব ইতিবাচক কিছু না দেখতে পেলেও আমাদের আশা রাখতে হবে। তবে ব্যাংক খাতে কী সিদ্ধান্ত হবে বা আইনগত বা নীতিগত পরিবর্তন সেটি কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে না। এটি পাঁচতারা হোটেলে বসে বা যেখানেই হোক তাদের (ব্যাংক মালিকদের) সিদ্ধান্তেই হয়। পরবর্তীতে সেটিই নীতি হিসেবে পরিচালিত হয়।

তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে সরকার একদিক থেকে যোগসাজশে অন্যদিক থেকে জিম্মিদশায় থেকেই ভূমিকা পালন করে। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি মেনে নিতে বাধ্য হয়। যার ফলে ক্রমাগতভাবে ব্যাংকিং খাতকে খারাপের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, তবে আমাদের মনে রাখতে হবে ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক পরিচালকদেরও মনে রাখতে হবে ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। তাই ব্যাংক খাতকে টেকসই রাখতে এ অবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না। এটা চলতে থাকলে ধস নেমে আসতে বাধ্য।

এ প্রতিবেদনে ব্যাংকিং খাতে করোনার প্রভাবে বিষয় তেমন কোনো তথ্য নেই- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি করা হয়েছে গত জুন মাসের আগ পর্যন্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। তাই তখন পর্যন্ত করোনার প্রভাবের তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়নি। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে তারা কাজ করবেন বলে জানান।

অর্থসূচক/এমআই/কেএসআর