দেশে শিগগিরই করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হচ্ছে

চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক বায়োটেক উদ্ভাবিত করোনা ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমোদন আগেই দিয়েছিল সরকার। এ ট্রায়াল প্রক্রিয়ার বিষয়ে আগামী দু’দিনের মধ্যে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. আবদুল মান্নান।

আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, করোনার ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সর্বশেষ সংবাদটির ওপরও আমাদের চোখ আছে। আমরা সব খবর রাখছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯টি কোম্পানি এই ভ্যাকসিন আবিষ্কার নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে ৫টি কোম্পানির সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। ভ্যাকসিন যদি আবিষ্কার হয়ে যায়, তাহলে আমরা যাতে দ্রুত আনতে পারি সেজন্য তাৎক্ষণিকভাবে কেনার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

তিনি বলেন, সিনোভ্যাককে আমরা ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছি। তারা অবিলম্বে কাজ শুরু করবে। আইসিডিডিআর,বি এর সঙ্গে মিলে কাজ করবে তারা। আইসিডিডিআর,বি এর সঙ্গে ট্রায়াল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তারা কথা বলেছে। আজ (সোমবার) অথবা আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে মন্ত্রণালয়কে লিখিত চিঠি দেবে সিনোভ্যাক। সেই চিঠিতে ট্রায়ালের সময় জানা যাবে। চিঠিতে ট্রায়াল সংক্রান্ত সব তথ্যের উল্লেখ থাকবে।

সচিব আরও জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে করোনা বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আছে। সেখানে করোনার বর্তমান অবস্থা, সেকেন্ড ওয়েভ, বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিসহ যাবতীয় বিষয়ে আলোচনা হবে।

এম এ মান্নান জানান, আমরা করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের সবকিছুই পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। সব ধরনের প্রস্তুতি আছে।

সাধারণ জনগণকে কি ভ্যাকসিন ফ্রিতে দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ফ্রিতে পেতে আমাদের অনেক সময় লেগে যাবে। তবে সরকার যারা ফ্রন্টলাইন এবং বয়োবৃদ্ধ তাদের অগ্রাধিকার দেবে। এছাড়া ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন শ্রেণি কিভাবে পাবে সেজন্য একটি নীতিমালা করা হবে। সাংবাদিকরাও ঘরের বাইরে কাজ করছেন, তারাও গুরুত্ব পাবেন। সাধারণ মানুষের জন্য কতটা অ্যাভেইলেবল করা যায় সেটি দেখছি। তবে যারা বয়স্ক এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবো।

রাশিয়া বাংলাদেশের কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম বলে মনে করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়ার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানিগুলোকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে। ইনসেপটা, পপুলার, বেক্সিমকো, হেলথ কেয়ার, স্কয়ারসহ বড় কোম্পানিগুলোর কথা বলেছে। বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের কোম্পানিও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

স্বাস্থ্যের ডিজির গাড়িচালকের বিষয়ে তিনি বলেন, সার্ভিস রোলে যে বিধান আছে, সে অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিজি বলেছেন, তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। দুদক আছে তারা দেখবে। তবে তার ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আরও যারা যারা এমন আছেন তাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া রয়েছে। গত কয়েক মাসে স্বাস্থ্য বিভাগে কোনো ধরনের অনন্যায় অবিচার দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। আমরা কাউকে ছাড়তে চাচ্ছি না। তবে সেই ড্রাইভারকে বরখাস্ত করার দায়িত্ব ডিজির। তাকে বরখাস্ত করতে আজকের দিন পার হওয়ার কথা না।

অর্থসূচক/কেএসআর