খালেদার চিকিৎসার সঙ্গে রাজনীতি এক করাটা অপরাধ: নজরুল

রাজনীতির সঙ্গে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে এক করাটা এক ধরনের অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে শর্ত আরোপ করা হয়েছে তা শিথিলের দাবি জানান তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা মনে করি, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নেত্রী। যে গণতন্ত্র হলো স্বাধীনতার মূল চেতনা। অর্থাৎ স্বাধীনতার চেতনা পুনরুদ্ধারকারী নেত্রী।’

তিনি বলেন, ‘এদেশের সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় মানুষ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় অকালে দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করার অধিকার কারোর নেই। সেজন্য আমরা তথ্যমন্ত্রীকে বলব, খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা কারাবন্দির সঙ্গে অন্যকিছুকে যুক্ত করাটা ঠিক হবে না। কারণ এটা অসুস্থতার বিষয়, চিকিৎসার বিষয়, রাজনৈতিক বিষয় না। তাই আমাদের রাজনীতির সঙ্গে তার সুচিকিৎসা এক করাটা এক ধরনের অপরাধ।’

খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এর আগেও যিনি তথ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং এখন যিনি আছেন উনারা হলেন জিয়া পরিবারের সমালোচনা বিষয়ক মন্ত্রী। কারণ তাদের কাজের বিষয়ে তারা যতটুকু কথা বলে তার চেয়ে বেশি কথা বলে তারা শহীদ জিয়ার বিপক্ষে, বেগম খালেদা জিয়ার বিপক্ষে এবং তারেক রহমানের বিপক্ষে। মনে হয় যেন এটাই তাদের মন্ত্রণালয়।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া একটা বিচারে কারারুদ্ধ হয়ে আছেন। তিনি দারুণভাবে অসুস্থ দেশ-বিদেশের সবাই তা জানেন। তার সুচিকিৎসা প্রয়োজন-এ নিয়েও কারো মনে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।’

তিনি আরও বলেন, এই কোভিড-১৯ চলাকালে যখন বিমান পরিবহন বন্ধ ও কেউ কারোর সঙ্গে দেখা করতে পারে না, সেরকম সময় তাকে বাসায় থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। বাসায় থাকার ফলে অন্তত উনার মানসিক কষ্টটা কিছুটা কমেছে। কিন্তু তার সুচিকিৎসার বিষয়টি যেটা শুধু মানবিক না, এটা নৈতিক ও জনগণের দাবি। কেউ একজন অসুস্থ হলে তার সুচিকিৎসা হওয়া দরকার। এ কারণে যদি প্রয়োজন হয়, উনি যদি বাইরে যেতে চান, তাহলে বাইরে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে যে আবেদনটা করা হয়েছে তা গ্রহণ করা হয়নি। সেইজন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলব, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য বিদেশে যাওয়ার এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হোক।

এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফাত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অর্থসূচক/এমএস