অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালার পুনঃমূল্যায়ন চায় বারভিডা

প্রতিযোগিতামূলক অটোমোবাইল শিল্পের জন্য প্রস্তাবিত অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালার পুনঃমূল্যায়ন চায় বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশন (বারভিডা)।

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম মিলনায়তনে (ইআরফ) ‘প্রস্তাবিত অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা (খসড়া) ২০২০: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হকের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হাবিব উল্লাহ ডন এবং আব্দুল হামিদ শরীফ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম সম্রাট।

অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক বলেন, বাংলাদেশ যখন একটি উন্নয়নশীল এবং মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে তখন এ দেশের মোটরগাড়ির শিল্পের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা থাকা বিশেষ প্রয়োজন। শিল্পমন্ত্রনালয় যে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে তাতে মতামত প্রদানের জন্য বারভিডাকে কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করায় আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। তবে অটোমোবাইল শিল্প নীতিমালায় অবশ্যই তিনটি উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

১. অভ্যন্তরীণভাবে বিশ্বমানের গাড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি সিবিইউ ও রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালায় সিকোডি এবং এসকোডি সংযোজনকারীদের শিল্প বলতে আমাদের আপত্তি রয়েছে। কারণ তারা উচ্চ পর্যায়ের সুরক্ষা ভোগ করছে। যেসব দেশে বছরে ন্যূনতম ১ লাখ গাড়ির চাহিদা রয়েছে। কেবল সেখানেই সিকেডি সংযোজনের সম্ভাবনা থাকতে পারে। আর সিকেডির ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে ৩০ শতাংশ যন্ত্রাংশ সংযোজনের শর্ত থাকা দরকার।

স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন হয় না বলে ভারত সরকার গত সপ্তাহে সিকেডির উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে, যা ১ অক্টোরর ২০২০ থেকে কার্যকর হবে।

২. যদি কোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে পূর্ণ শিল্প স্থাপনে আগ্রহী থাকে তবে তাদের জন্য বর্তমান শুল্ক ও করহার এবং প্রণোদনা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দেওয়া রয়েছে। বিশ্বমানের কোনো কোম্পানি বাংলাদেশে গাড়ি নিমার্ণ শিল্প স্থাপন করতে চাইলে আমরা তাকে স্বাগত জানাই। তবে শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের উপর নির্ভর না করে সেই কোম্পানি যেন নিজেরা রফতানির ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয় সেটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

৩. বিদেশি ও জয়েন্ট ভেঞ্চারের কোম্পানিগুলোর উচিত হবে বাংলাদেশের সস্তা শ্রম ব্যবহার করা এবং সুরক্ষার মাধ্যমে নয় বরং প্রতিযোগিতামূলক দামে গাড়ি তৈরিতে তাদেরকে দক্ষ করে তোলা।

অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা-২০২০ এর খসড়া নিয়ে তিনি বলেন, নীতিমালাটির খসড়া তৈরিতে দেশের বিদ্যমান শিল্পনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বরং খসড়াটির বেশ কিছু বিষয় বিদ্যমান শিল্পনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা একটি আন্তর্জাতিক মানের এবং স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান দিয়ে নীতিমালাটি পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।

একইসঙ্গে বিশ্বের দ্রুত বিবর্তনশীল প্রযুক্তি এবং চলমান করোনা মহামারি পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক ও বিশ্ব প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালা পুনঃমূল্যায়ন করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করছি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রস্তাবিত নীতিমালটির লক্ষ্য আরও বাস্তবভিত্তিক হওয়া বাঞ্চনীয়, দেশীয় গাড়ি নির্মার্ণের নামে স্ক্রু ড্রাইভিং শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দরকার, দেশের সীমিত বাজারকে সামনে রেখে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রয়োজন, রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ও নতুন গাড়ির শিল্প থেকে আয়ের সম্ভাব্যতা দেখা উচিৎ।

কর কাঠামোয় স্থানীয় সংযোজন শিল্পে অতিমাত্রায় সুরক্ষা প্রদান, ইমিশন কন্টোল স্ট্যান্ডার্ডস মেনে গাড়ি নিমার্ন শিল্প স্থাপন এবং বিশ্বজুড়ে রিকন্ডিশন গাড়ির ব্যাপক গ্রহণ যোগত্যা রয়েছে সেই বিষয়টি খেয়াল রাখা।

অর্থসূচক/এমআই/কেএসআর