ট্রাকে পচছে পেঁয়াজ, ২৫ হাজার টন রফতানির অনুমতি

নিষেধাজ্ঞার আগে রফতানির অনুমতিপ্রাপ্ত ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ ছাড়ের অনুমতি দিয়েছে ভারত। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ঢাকার ভারতীয় কমিশনের সূত্রকে বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ।

রফতানি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে পাঁচ দিন ধরে সেখানে ট্রাকে থাকা পেঁয়াজ গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ছাড়ের অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এসব পেঁয়াজ হিলিসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকবে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ জানান, ভারত প্রায় ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ (ইতোমধ্যে ট্রানজিট বা রফতানির জন্য প্রস্তুতকৃত) বাংলাদেশে রফতানির অনুমতি দিয়েছে। আজ শনিবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।

এ ব্যবসায়ী নেতার দাবি, সীমান্তে ওপারে আটকে থাকা শত শত ট্রাক পেঁয়াজে ইতোমধ্যে পচন ধরেছে। ফলে ক্ষতি এড়াতে রফতানির অনুমতি না দিয়েও উপায় নেই।

জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত। এতে ভারতের বিভিন্ন সড়কে প্রায় ২৫০ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে ঢোকা বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে ভারতের পেঁয়াজ ছাড়ের অনুমতির বিষয়টি ইতোমধ্যে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশার মুহাম্মদ ইমরান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে জানিয়েছেন বলে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে জি নিউজ।

দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ট্রাকের পেঁয়াজ বাংলাদেশ পাবে কিনা তা নিয়ে শেষ দু-তিন দিন ধরেই দেনদরবার চলে। সর্বশেষ গতকাল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সে দেশের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পরই আগের এলসি করা পেঁয়াজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসে।

দেশের আমদানিকারকরা জানিয়ে আসছিলেন, যেসব পেঁয়াজের ট্রাক আটকে আছে, সেগুলোর যথাযথ এলসির বিপরীতেই এসেছে। এগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রও রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা এসব পেঁয়াজের ন্যায্য দাবিদার। এরই মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের পেঁয়াজে পচন ধরার অবস্থা হয়েছে বলে খবর দেয় কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। আমদানিকারকরা আরও জানান, ভারতের রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সীমান্তে আটকেপড়া পেঁয়াজের হিসাব নেয়।

দিল্লির একাধিক সূত্র জানায়, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় দেড় হাজার ট্রাক পেঁয়াজ ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বরের আগেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের রানাঘাট, বনগাঁ, হিলি ও বেনাপোলে এসে পৌঁছে। সীমান্তে পৌঁছে যখন বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল, তখনই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসে। এতে বলা হয়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে। ফলে ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজের এসব ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। এরপর থেকেই পেঁয়াজভর্তি এসব ট্রাক সীমান্তে আটকা পড়ে ছিল।

সূত্র জানায়, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সাউথ ব্লকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন, গত জানুয়ারি মাসে দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত ছিল এরপর থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি বন্ধের কোনো ঘোষণা দেওয়ার আগে তা বাংলাদেশকে জানাতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে সাউথ ব্লককেও বিষয়টি জানায়নি। ফলে তারা আগেভাগে বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেননি। এর পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে এ মুহূর্তে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তুরস্ক থেকে দেশে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, তিনি শুনেছেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগে থেকে জানত না এবং এ জন্য তারা অনুতপ্ত বলেও জানিয়েছে।

এদিকে, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। এতে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছে দেশটির কৃষকরা। তারা পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় কৃষিপণ্যের মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ‘ন্যাপেড’ গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকে হঠাৎ করে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজের রফতানি মূল্য ৭৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে। এতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে। কেজিতে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায় ৪০-৫০ টাকা। তবে গত দুই দিন পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।

অর্থসূচক/কেএসআর