জেড ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেনে নতুন নির্দেশনা বুধবার কার্যকর

পুঁজিবাজারে দূর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসেবে পরিচিত জেড ক্যাটাগরিভূক্ত কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা সহজ করেছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এই ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানো হয়েছে। এটি আগামীকাল বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর থাকবে।


বিএসইসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

নতুন নির্দেশনার আলোকে জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন টি প্লাস থ্রি (T+3) ভিত্তিতে নিষ্পন্ন হবে। এতদিন এই ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তি হতো টি প্লাস নাইন (T+9) ভিত্তিতে।

গত ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন সভায় জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে এই ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোতেও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও এই বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আজ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। আজ বিকালে বিএসইসি আলোচিত প্রজ্ঞাপন জারি করায় কাল থেকেই আলোচিত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শেয়ার কেনার চতুর্থদিনে বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে ওই শেয়ার জমা হবে। একইভাবে কেউ শেয়ার বিক্রি করলে চতুর্থ দিনে তার টাকা পাবেন। এতদিন দশম দিনে শেয়ার বা টাকা পাওয়া যেত।

বর্তমানে জেড ক্যাটাগরি ছাড়া বাকি সব ক্যাটাগরির (এ, বি ও এন) শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি হয় টি প্লাস ২ ভিত্তিতে।

দূর্বল শেয়ার নিয়ে কারসাজি কমানোর লক্ষ্যে ২০১৩ সালে জেড ক্যাটাগরির লেনদেন নিষ্পত্তির সময় বাড়িয়ে টি প্লাস নাইন করা হয়।

স্টক এক্সচেঞ্জের স্যাটলমেন্ট অব ট্রান্সজকশন রেগুলেশন, ২০১৩ অনুসারে কোনো কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা না করলে, লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনে ব্যর্থ হলে, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে উৎপাদন বা ব্যবসা বন্ধ থাকলে অথবা কোম্পানির পুঁঞ্জিভুত লোকসান তার পরিশোধিত মূলধনকে ছাড়িয়ে গেলে ওই কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

লেনদেন সহজ করার ফলে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার নিয়ে বাজারে কারসাজির মাত্রা বেএ যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাতে সাধারণ বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।