জলবায়ু পরিবর্তন সংকট মোকাবেলায় তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
অ্যাকশন এইডের ওয়েবিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জলবায়ু পরিবর্তন সংকট মোকাবেলায় তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন,  জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে সর্বাধিক সংকটপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ তারাই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত।

বুধবার একশনএইড বাংলাদেশ, ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস, কোস্টাল ইয়ুথ একশন হাব, বিন্দু, বাংলাদেশ মডেল ইয়ুথ পার্লামেন্ট , বাংলাদেশ এনভায়ারমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি এবং বৃটিশ কাউন্সিল এর যৌথ উদ্যোগে “ইয়ং পিলল লিডিং কোস্টাল রেজিলিয়েন্স” শীর্ষক এক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তরুণ প্রজন্মের আবিষ্কারকে সহায়তা করতে সম্প্রতি স্পেশাল ডেল্টা ফান্ড প্রণয়ন করা হয়েছে।

তাছাড়া আগামী মাসে দেশে রিজিওনাল এডাপ্টেশন সেন্টার স্থাপন হতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি । এই বছরে ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ২০২০ ঘোষণা করা হয় এবং বিশ্বের ৭৫ টি দেশের প্রায় ১২০০ প্রতিনিধি ক্লাইমেট রিজিলেন্স প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন বলেও জানান আব্দুল মোমেন।

এই ওয়েবিনারে “কোস্টাল ইয়ুথ একশন হাব” নামে একটি প্ল্যাটফর্ম উদ্ভোধনও করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য ও ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশ এর আহবায়ক নাহিম রাজ্জাক, বলেন, “আমরা সবাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে অবহিত ,কিন্তু আমারা যেটা বুঝিনা সেটি হচ্ছে আমদেরকেই এই সমস্যা নিরসনে এগিয়ে আসতে হবে”।

“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন । স¤প্রতি সরকার থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে ক্ষতিগ্রস্থ অনেক পরিবারকে উন্নত মানের আবাসনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে,” নাহিম রাজ্জাক বলেন ।

পরিবেশ বিপর্যয় রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে একটি সমন্বিত এপ্রোচ প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। পাশাপাশি ইকো সিস্টেম রক্ষার্থে তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রম দেবার আহবান জানান তিনি।

আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে উল্লেখ করে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর ডিরেক্টর বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা অনেক কিছু হারালেও এই সমস্যা মোকবেলায় আমাদের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবেলায় বাংলাদেশ তাদের অর্জিত জ্ঞান বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে শেয়ার করতে পারে”।

ওয়েবিনারে উপস্থিত একশনএইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা সহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থা পৃথিবীর কাছে দৃষ্টান্তস্বরুপ। তরুণ প্রজন্ম বোতল বাতি স্থাপনের মতো বিভিন্ন পরিবেশ বান্ধব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে যা প্রশংসনীয়”।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তরুণদের জন্য সঠিক প্লাটফর্ম প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন । জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষণায়ও তরুণদের মনোনিবেশ করার আহবান জানান ফারাহ কবির।

গত ১০ বছর ধরে ইয়ুথ লিডারশীপ তৈরিতে বৃটিশ কাউন্সিল কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন বৃটিশ কাউন্সিল এর ডিরেক্টর ( ইনক্লুসিভ কমিউনিটিস) ড. শাহনাজ করিম। বৃটিশ কাউন্সিল তাদের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের পরিবেশ বিপর্যয় , জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও টেকসই উন্নয়নে সচেতনাম‚লক কার্যক্রমসহ সৃষ্টিশীল কর্মে সহযোগিতা করছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যন ড. কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, “উপক‚লের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ। এই বিপর্যয় মোকাবেলায় আমাদের সম্পদ ও জনবলের সংকট রয়েছে । উপকূলে পানিতে লবনাক্ততার পরিমান অনেক বেশি যার ফলে কৃষি কাজেও অনেক সমস্যা হচ্ছে”।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নতুন গাইডলাইন তৈরি ও তরুণদের নীতি নির্ধারণে যুক্ত করার আহবান জানান তিনি। পাশাপাশি এই খাতে অধিক পরিমান তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

মানবাধিকার কর্মী শিপা হাফিজা, তার বক্ত্যব্যে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মানবাধিকারের বিষয়টি সরাসরি সংযুক্ত। প্রতিটি দ‚র্যোগ আমাদের মানবাধিকারকে হুমকির মুখে ফেলে এবং এই দূর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তরুণরা”।

বরিশাল দুর্যোগপূর্ণ এলাকা উল্লেখ করে বরিশালের ডেপুটি কমিশনার ও ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেট এস এম আজিওর রহমান বলেন, “ সরকার উপকূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মৎস্য ব্যবসার সাথে যুক্ত হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন তাদের জীবিকার উপর প্রভাব ফেলছে”।

সরকার উপকূলের মানুষদের উন্নয়নে, সামুদ্রিক খাবার নিরাপত্তায় গবেষণা, গাছ লাগানোসহ বিভিন্ন ইয়ুথ ফোরামের সাথে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

ওয়েবিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এশিয়া অঞ্চলের কপ-২৬ এর আঞ্চলিক প্রতিনিধি কেন ও ফ্লেয়াথি।

তিনি বলেন “ জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। সিভিল সোসাইটি, সরকার , উন্নয়ন সংস্থা সবাই মিলে এই বিপর্যয় মোকাবেলা করতে হবে”।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ও দাতাদের কাছ থেকে অধিক পরিমান তহবিল প্রাপ্তিতে তারা কাজ করছেন বলে জানান কেন ও’ফ্লেয়ার্থি।

ওয়েবিনারে আরোও বক্তব্য রাখেন, নেদারল্যান্ড দ‚তাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ফোকার্ট ডি জাগের, ইয়ুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এর কোঅর্ডিনেটর শাকিলা ইসলাম, বাংলাদেশ মডেল ইয়ুথ পার্লামেন্ট এর চিফ এক্সিকিউটিভ সোহানুর রহমানসহ অনেকে ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ