‘গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এমপিদের সংশ্লিষ্টতায় দুনীতি বেড়েছে’

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সংসদ সদস্যদের দুর্নীতি ও অনিয়ম দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সবশেষ পনের বছরে আরও শক্তিশালী হয়েছে সংসদ সদস্য এবং ঠিকাদারদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক। এসব সমস্যা সমাধানে শক্তিশালী আইনি কাঠামো, কাজের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ বুধবার (১২ আগস্ট) ‘সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দ: অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ৮ থেকে ১৩ শতাংশ প্রকল্পে ঘুষ দিতে হয়। প্রতিটি প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য হয় ন্যূনতম ৪ লাখ ৩৩ হাজার থেকে ৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। এলাকাবাসী অভিযোগ করার পরেও সিংহভাগ অভিযোগেরই কোন প্রতিকার মিলে না। এরকম প্রক্রিয়ায় নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এখনো পর্যন্ত চলমান রয়েছে বলে জানায় টিআইবি।

গবেষণায় আরও জানানো হয়, বেশিরভাগ প্রকল্পের তথ্য জনগণের কাছ থেকে গোপন করা হয়। প্রকাশ করা হয় না আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং প্রকল্পের মেয়াদকাল। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই তথ্য গোপনের এরকম সমস্যা রয়েছে বলে মত তাদের।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাপকাটি পাঁচটি সূচক অত্যন্ত দুর্বল। সেগুলো হলো- আইন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ। সরকারি এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন ঠিকাদার ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে একটি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে দলীয় রাজনীতির প্রসার সরাসরিভাবে প্রতীয়মান। তৈরি হয়েছে অর্থ আত্মসাতের অবারিত সুযোগ এবং এসব উন্নয়ন প্রকল্পে নৈতিক আচরণ বলতে কিছুই নেই বলে মনে করেন তিনি।

এ অবস্থায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা থেকে দূরে থাকাই বাঞ্ছনীয় বলে মনে করেন ইফতেখারুজ্জামান।

অর্থসূচক/জেডএ/কেএসআর