অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য স্মার্টফোন কিনতে তালিকা তৈরির নির্দেশ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ডিভাইস (স্মার্টফোন) কিনে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। যাদের ডিভাইস কেনার আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই, শুধুমাত্র সেইসব শিক্ষার্থীর নির্ভুল তালিকা ২৫ আগস্টের মধ্যে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।

আজ রোববার (০৯ আগস্ট) দেশের ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য বরাবর পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউজিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালসমূহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর অভিপ্রায়ে ২৫ জুন কমিশন এবং উপাচার্যদের নিয়ে ভার্চুয়াল এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্যদের মতামতের ভিত্তিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে যেন সব শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্যে উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধাসহ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ডাটা সরবরাহ এবং সহজ শর্তে স্মার্টফোন কিনতে ঋণ সুবিধার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য কমিশন থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়া হয়।

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যেসব শিক্ষার্থীর ডিভাইস ক্রয়ে আর্থিক সক্ষমতা নেই, শুধু সেসব শিক্ষার্থীর নির্ভুল তালিকা ২৫ আগস্টের মধ্যে director_publicuniv@ugc.gov.bd ই-মেইলে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এছাড়া, ইউজিসি আরেকটি চিঠিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধির যথাযথ প্রয়োগ ও গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ করতে বলেছে।

চাকরিবিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী যথাযথ প্রতিষ্ঠানের বিনা অনুমতিতে অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বা কোনো ধরনের লাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকতে পারেন না। কিন্তু ইউজিসির কাছে তথ্য রয়েছে যে, কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কেউ কেউ তা অমান্য করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছেন। যা চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এদিকে গবেষণা কার্যক্রমে ব্যয় করার নিয়ম থাকলেও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে তা হয়নি। সেক্ষেত্রে গবেষণা খাতে বরাদ্দ করা অর্থ শুধুমাত্র ওই গবেষণা প্রকল্পের খরচ করার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য আরেক চিঠিতে অনুরোধ করেছে ইউজিসি।

অর্থসূচক/কেএসআর