ভারতের সাথে রক্তের সম্পর্ক, চীনের সাথে অর্থনৈতিক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতের সাথে আমাদের রক্তের সম্পর্ক এবং চীনের সাথে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি চীন আমাদের দেশের প্রায় আট হাজারেরও বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া। এ নিয়ে ভারতের সাথে আমাদের সাথে সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

আজ শনিবার (০৮ আগস্ট) সকালে মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, প্রতিবেশি দেশ ভারতের সাথে আমাদের নাড়ির সম্পর্ক। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা রক্তের সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে। আগামী বছর আমরা ৫০ বছর পূর্তি উৎসব করব।

তিনি বলেন, ভারতের সাথেও যেমন আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে তেমনি চীনের সাথেও আছে। ইতিমধ্যে চীন আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এক্ষেত্রে চীন ভারত উত্তেজনায় বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। আমরা সবাই মিলে যৌথভাবে কাজ করবো।

চীন ও ভারতের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কুটনৈতকি তৎপরতরা কোন দিকে যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আপনারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জিজ্ঞাসা করেন, তারা এর মূল দায়িত্বে। আমি যেটা শুনেছি চাইনিজ একটি কোম্পানি যারা বিভিন্ন দেশে এ ধরনের গবেষণা করে। আমাদের দেশের আইসিডিডিআরবি ২৮টি দেশের প্রতিষ্ঠান, যারা কলেরা নিয়ে গবেষণা করে। তাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক হচ্ছে। কিন্তু কেউ কেউ এটা রাজনৈতিক বিষয় বানানোর চেষ্টা করছেন। দিস ইস পিউরলি রিসার্চ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের মানুষের জন্য যদি এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে হয় তাহলে সেটা নিয়ে সরকার চিন্তা করবে। এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খুব বেশি কিছু ভূমিকা নেই।

চীন ও ভারতের যেকোনো একটি বাদ দিয়ে অন্য দেশের ভ্যাকসিন ব্যবহারে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত হব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত ও পাকিস্তান অক্সফোর্ডের সাথে সহযোগিতার ভিত্তিতে এটা করছে। আমরা এখনও এ বিষয়ে কারও সাথে সহযোগিতা চুক্তি করিনি। যেখানে পাওয়া যায় তাদের সাথে আমাদের সহযোগিতা চুক্তি করা উচিৎ। তাতে সস্তায় অতি শিগগিরই আমরা ভ্যাকসিন পেতে পারি। আমরা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে একটি উদ্যোগ নিয়েছি। যার মাধ্যমে যার যার দরকার তাদেরকে দ্রুত ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে বলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা এটা করেছি। আমরা চাই এগুলো দ্রুত হোক। কোন দেশ থেকে নিব না নিব তা নিয়ে তেমন কিছু ভাববার বিষয় নয়।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা যে মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে এনে আইনের সম্মুখিন করব। কিন্তু এই পাঁচ খুনি এখনো যারা জীবিত আছে এর মধ্যে দুই জনের খবর আমরা জানি। একজন আমেরিকা আরেকজন কানাডায় থাকেন। এদেরকে আমরা আনতে পারবই এমন গ্যারান্টি আমি দিতে পারছি না। কারণ, তারা যে দেশে আছে তাদের উপর নির্ভর করে। তবে আমাদের সকল মিশনকে সতর্ক করেছি যাতে দ্রুত খুনিদের খুঁজে দেশে আনা যায়।

মেহেরপুরে স্থলবন্দর স্থাপনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আপনারা এটা নিয়ে আবেদন করেন, ভয়েস রেইস করেন। তাহলে এ বিষয়ে আলোচনা করে দেখা যাবে।

স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ডা. এম মুনসুর আলম খান, পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম শাহীনসহ নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

অর্থসূচক/কেএসআর