চামড়া খাতে মাত্র ২৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে চার ব্যাংক
বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

চামড়া খাতে মাত্র ২৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে চার ব্যাংক

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চামড়া খাতে ২৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকারি চার ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৬০০ কোটি টাকার বেশি। বিশ্ববাজারে বিক্রি কমে যাওয়া ও কাঁচা চামড়া কিনতে পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণ না পাওয়ার কারণেই কোরবানির চামড়া সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

আর চামড়া খাতে দেয়া ঋণের মধ্যে বেশিরভাগ খেলাপি থাকায় চলতি বছর মাত্র ২৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকারি ৪ ব্যাংক।

গত বছর থেকে রাস্তায়, গলিতে, বৃষ্টির পানিতে পচে নষ্ট হচ্ছে রপ্তানি খাতের চামড়া সম্পদ। সরকারের দাম নির্ধারণ, রপ্তানির সুযোগ করে দেয়া, কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও পুনঃতফসিল সুবিধা দিয়েও কোনভাবেই শৃঙ্খলায় আসছে না এ সম্পদের ব্যবস্থাপনায়। ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশ্বিক বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় প্রতিবছরই অর্ধেক চামড়া অবিক্রিত থাকছে। এতেই অর্থ সংকটে পড়েছেন বলে দাবি ট্যানারি মালিকদের।

ট্যানার্স এসোসিয়েশেনের কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে বলেছিলাম আমাদের সবকিছুর ওপর লক্ষ্য দিয়ে আমাদের ফ্রেশ ঋণ দিতে। কিন্তু ব্যাংক সে পথে হাঁটেনি। যার কারণে সময়মত আমরা আমাদের ঋণগুলো পরিশোধ করতে পারছি না।’

ঋণ না দেয়ার যুক্তিও রয়েছে সরকারি ব্যাংকগুলোতে। কেননা, গত বছর কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে অগ্রণী, সোনালী, রূপালি ও জনতা ব্যাংক যে ঋণ দিয়েছিল তার একটি বড় অংশই এখনো অনাদায়ী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে মতে, কয়েক বছরে চামড়া খাতে বিতরণ করা প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশ খেলাপি।

৯ জুলাই কোরবানির ঈদে চামড়া শিল্পের ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান যাতে কাচা চামড়া ক্রয় করতে সক্ষম হয় সেজন্য ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ প্রদানের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। শুধু তাই নায়, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সহায়ক জামানত গ্রহণের বিষয়টি নমনীয়ভাবে দেখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে।

এর আগে, গত ৫ জুলাই আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া  ক্রয়-বিক্রয় ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে প্রকৃত চামড়া ব্যবসায়ীদের নিকট অর্থ প্রবাহ সচল রাখার উদ্দেশ্যে এ খাতে খেলাপিঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৮ বছরের জন্য ঋন পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়। সচল এবং প্রকৃত কারণে ক্ষতিগ্রস্তরাই এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া সুবিধাভোগিরা নতুন ঋণের আবেদন করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

সূত্র জানায়, এ বছর সোনালী ব্যাংক ১০০ কোটি, জনতা ব্যাংক ১৮০ থেকে ২০০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ১৮৫ কোটি এবং রূপালী ব্যাংক ১৫৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। পক্ষান্তরে, সোনালী ব্যাংক ২৫ কোটি, রূপালী ব্যাংক ৩৪ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৫১ কোটি এবং জনতা ব্যাংক ১২০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।

অর্থসূচক/জেডএ/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ