সবুজায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগের উল্টোগতি

সবুজ শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়েছিল গ্রিন ফাইন্যান্সিংয়ের। কিন্তু এখনো পর্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি সবুজায়নে বিনিয়োগ। বছরের শুরুতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও শেষ পর্যন্ত তা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে বেশিরভাগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর জন্য শিল্প কারখানার মালিকদের অনাগ্রহকেই দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি সবুজায়ন প্রকল্পের ঋণ পেতে অতিরিক্ত জটিলতা অতিক্রম করতে হয় বলে মত বিশ্লেষকদের। এ কারণেই সবুজ শিল্পায়নের ধারাবাহিকতা না বেড়ে দিন-দিন কমে যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ১৫ শতাংশ কমেছে ব্যাংক খাতের সবুজায়ন বিনিয়োগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে ব্যাংকগুলোর সবুজায়নে বিনিয়োগ করেছে ২ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। যা আগের তিন মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। ডিসেম্বর প্রান্তিকে এই বিনিয়োগ ছিল ৩ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। অন্যদিকে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবুজায়ন বিনিয়োগ। পূর্বের প্রান্তিকের তুলনায় মার্চ প্রান্তিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সবুজায়ন বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে সবুজায়ন বিনিয়োগ ছিল ১৭০ কোটি টাকা । কিন্তু পরবর্তী তিন মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বিনিয়োগ হয়েছে ২১৪ কোটি টাকা।

২০১১ সাল থেকে পরিবেশবান্ধব সবুজ অর্থায়ন বাড়াতে গ্রিন ব্যাংকিং চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন বলা হয়েছিল, মোট ঋণের ৫ শতাংশ সবুজায়নে বিতরণ করতে হবে। ২০১৬ সালে পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মোট ফান্ডেড লোনের ৫ শতাংশ পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যাংকই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। আলোচ্য সময়ে গ্রিনব্যাংকিংয়ে অংশ নিয়েছে এনআরবি ব্যাংক, আই এফ আই সি ব্যাংক, দি এইচএসবিসি লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সৌদি বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিনান্স ফান্ড লিমিটেড এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।

উল্লেখ্য, পরিবেশে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা কমাতে শিল্প-কারখানায় সবুজায়ন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১১ সালে। তখন থেকেই স্টিল, পেপার, পোশাক, চামড়াসহ বিভিন্ন খাতে পরিবেশবান্ধব ঋণ দিয়ে আসছে ব্যাংক। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্প টি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি।

অর্থসূচক/জেডএ/এমএস