ডাকযোগে ভোটের বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্ক ও দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ ততই বাড়ছে৷ বিশেষ করে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ‘মেল-ইন ব্যালট’-এর বৈধতা নিয়ে বার বার প্রশ্ন তুলছেন খোদ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প৷ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনও বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পাল্টা আক্রমণ করছেন৷

আমেরিকায় কাজের দিনেই ভোটগ্রহণ হওয়ার কারণে অনেক মানুষ চাকরি হারাবার ভয়ে সশরীরে ভোট দিতে পারেন না৷ কাজের সূত্রে দূরে থাকলেও ভোট দিতে সমস্যা হয়৷ এমন সব মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে ডাকযোগে ব্যালটের সুযোগ রয়েছে৷ চলতি বছর করোনা সংকটের কারণে অসংখ্য ভোটার সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ অনেক জায়গায় প্রথাগত ভোটগ্রহণ সম্ভবই হচ্ছে না৷ সে ক্ষেত্রে ‘মেল ইন’ অথবা ‘অ্যাবসেন্টি ব্যালট’-এর মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যেতে পারে৷ কর্তৃপক্ষ সব ভোটারকে ব্যালট পাঠালে সেই ব্যবস্থাকে ‘মেল ইন’ বলা হয়৷ কোনো ভোটার বিশেষ কারণ দেখিয়ে ডাকযোগে ভোটের আবেদন জানালে সেটিকে ‘অ্যাবসেন্টি ব্যালট’ বলা হয়৷

ট্রাম্প বার বার সেই প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ করে ‘মেল ইন’ ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন৷ তবে এমন আশঙ্কার সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পেশ করেননি তিনি৷ ‘অ্যাবসেন্টি ব্যালট’ নিয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই৷ ডাক বিভাগ বিশাল সংখ্যায় পোস্টাল ব্যালট সামলাতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি৷ এমনকি নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁর পরাজয় হলে সেই দায় আংশিকভাবে ডাকযোগে ব্যালটের উপর চাপানোর হুমকি দিয়ে চলেছেন তিনি৷ প্রয়োজনে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন তিনি৷ অথচ নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা আমেরিকার নির্বাচনের কারচুপির সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন৷

এমনই প্রেক্ষাপটে নেভাদা রাজ্য প্রত্যেক ভোটারকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে কাগজপত্র পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে৷ বিশেষ করে করোনা সংকটের মাঝে সশরীরে ভোট দিতে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে অনেকেই সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করবেন, এমনটা ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ ডেমোক্র্যাটিক দলের জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে সেই মর্মে এক প্রস্তাব পাশ করেছেন৷

নেভাদাসহ সাতটি রাজ্য এমন পদক্ষেপ নেওয়ার পর অন্যান্য রাজ্যও সেই পথ অনুসরণ করার আগে ট্রাম্প নেভাদা রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন৷ এক টুইট বার্তায় তিনি ‘রবিবার রাতে বেআইনি অভ্যুত্থান’ নিষ্ক্রিয় করতে মামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন৷ এমনকি নিজের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে ডাকযোগে ব্যালটের বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপের আভাস দিয়েছেন তিনি৷

বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক দল ও ভোটাধিকার নিয়ে সোচ্চার কিছু গোষ্ঠী ডাকযোগে ভোটের পথে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমাগত বাধা সৃষ্টির অভিযোগ করছে৷ ট্রাম্পের প্রচার অভিযানে চাঁদা দিয়েছেন, এমন এক ব্যক্তিকে পোস্ট মাস্টার জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত করে ব্যয় সংকোচ চালানো হচ্ছে৷ রিপাবলিকান দল সেই প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটী বিষয় নিয়ে নানা আপত্তি তুলছে৷

ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন সোমবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনেছেন৷ নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ট্রাম্প মরিয়া হয়ে ডাকযোগে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন৷ তাঁর মতে, নির্বাচনে কারচুপির দাবি করতে ট্রাম্প নিজের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন৷ সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, ডিডব্লিউ

অর্থসূচক/এএইচআর