কাশ্মীরে নতুন করে উত্তেজনা, অপহৃত সেনা
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

কাশ্মীরে নতুন করে উত্তেজনা, অপহৃত সেনা

কাশ্মীরে এক টেরিটোরিয়াল সেনা অফিসার নিখোঁজ। সেনা বাহিনী এবং পুলিশের দাবি, তাঁকে কুলগাম অঞ্চল থেকে অপহরণ করা হয়েছে। কুলগামে তাঁর পোড়া গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। আগামীকাল (৫ অগাস্ট) কাশ্মীর থেকে ৩৭০ এবং ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিল করার এক বছর পূর্তি। তার আগে এই ঘটনায় কাশ্মীর উপত্যকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জেলা প্রশাসন দুই দিনের কারফিউ ঘোষণা করেছে। অন্য দিকে, অপহৃত সেনার খোঁজে কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট ভারতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৩৭০ এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ বাতিলের কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কাশ্মীরকে রাজ্য থেকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। কাশ্মীর পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য এরপর দীর্ঘ লকডাউন জারি করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। গ্রেফতার করা হয় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের। এই পরিস্থিতির মধ্যে বিজেপি পরিচালিত সরকার বার বার দাবি করে কাশ্মীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবেই কি পরিস্থিতি স্বাভাবিক?

৩৭০ অনুচ্ছেদের এক বছর পূর্তির দিনটিকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে কাশ্মীরে, তা থেকেই স্পষ্ট পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। প্রশাসন জানিয়েছে, গোয়েন্দা রিপোর্টে নাশকতার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এবং সে কারণেই দ্রুত লকডাউন এবং কার্ফিউ জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানাচ্ছে, কাশ্মীরের কয়েকটি সংগঠন ৫ অগাস্ট দিনটিকে ‘কালো দিবস’ বলে ঘোষণা করেছে। তারই মধ্যে সেনা অফিসারের অপহরণের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

কাশ্মীর পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত রোববার কুলগামে গিয়েছিলেন টেরিটোরিয়াল আর্মির ওই সেনা অফিসার। ওই দিনই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। সোমবার তাঁর পোড়া গাড়ি পুলিশ উদ্ধার করে। তবে কারা তাঁকে অপহরণ করল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও খবর পায়নি পুলিশ। দিকে দিকে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ওই সেনার পরিবারও বিবৃতি দিয়ে অফিসারকে মুক্তির আবেদন করেছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, গত এক বছরে কাশ্মীর উপত্যকায় যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। মাসের পর মাস লকডাউন জারি ছিল। ১৫০ দিনেরও বেশি ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে পরিমিত ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু হয়। এবং তারই মধ্যে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ায় নতুন করে লকডাউন ঘোষণা হয়। লকডাউন, কার্ফিউ থাকলেও, এই এক বছরে কাশ্মীরে সেনার সঙ্গে স্বাধীনতাকামীদের লড়াই জারি থেকেছে।

সেনা সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে প্রায় ১৫০ ‘জঙ্গি’র মৃত্যু হয়েছে সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে আসা ব্যক্তির সংখ্যা মাত্র ১৭। অর্থাৎ, বাকি সমস্ত ব্যক্তিই কাশ্মীরের অধিবাসী। বিশেষ করে দক্ষিণ কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীর সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে বলেই সূত্র জানাচ্ছে। ফলে উপত্যকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলা যায় না। পরিস্থিতি যে অনুকূল নয়, তা বুঝতে পারছে সরকারও। সে কারণেই আগামী দুই দিন কার্ফিউ জারি করা হয়েছে।

অর্থসূচক/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ