পুঁজিবাজারে কালো টাকা সাদা করতে দিতে হবে নানা তথ্য

পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে শর্ত সাপেক্ষে এই বাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।শর্ত অনুসারে,পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করতে চাইলে ওই টাকা কমপক্ষে এক বছর বিনিয়োগে রাখতে হবে। পাশাপাশি দিতে হবে ১০ শতাংশ কর।

তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)অর্থবিলে আরোপ করা শর্তের পাশাপাশি আরও কিছু শর্ত আরোপ করেছে।এই শর্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীকে শুধু বর্তমান বিনিয়োগের তথ্য নয়,অতীতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে থাকলে বিস্তারিতভাবে ওই তথ্যও জানাতে হবে।আর এসব তথ্য জানাতে পূরণ করতে হবে একটি বিশেষ ফরম। এনবিআর সম্প্রতি এই ফরম ছাপিয়েছে।

এনবিআর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আলোচিত ফরম পূরণ করতে গিয়ে কালোটাকার মালিকেরা কবে থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছেন, কবে কোন কোম্পানির শেয়ার কিনেছিলেন,এখন কোন কোন কোম্পানির শেয়ার আছে, এই পর্যন্ত কত টাকা বিনিয়োগ করেছেন—এসব তথ্য দিতে হবে।ওই ফরমে ১২ নম্বর ঘরে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টের নম্বর, লেজার ও পোর্টফলিও স্টেটমেন্ট চাওয়া হয়েছে।

কালোটাকা সাদা করার ফরমে কালোটাকা সাদাকারীর নাম,ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংকের নাম, কত টাকা সাদা করা হবে, করের পরিমাণ, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, মোবাইল নম্বর—এসব তথ্য দিতে হবে। এই ফরম পূরণ করে ওই করদাতা যে অঞ্চলের করদাতা,সেই কর অঞ্চলে জমা দিতে হবে। এটিই কালোটাকা সাদা করার ঘোষণাপত্র হিসেবে গণ্য হবে। কালোটাকায় শেয়ার কেনার ৩০ দিনের মধ্যে এই ঘোষণা দিতে হবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন খাতে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি নগদ টাকাও সাদা করার অবাধ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শুধু ১০ শতাংশ কর দিলেই বিনা প্রশ্নে মেনে নেবে এনবিআর। টাকার উৎস কী, তা-ও জানতে চাইবেন না কর কর্মকর্তারা।

গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা দিন জানানো হয়েছিল, পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে সাদা করতে হলে বিনিয়োগ কমপক্ষে ৩ বছর ধরে রাখতে হবে। পরে স্টক এক্সচেঞ্জসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধে ‘লক ইন’ এর মেয়াদ তিন বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করা হয়।

তবে লকইনের মেয়াদ কমানো হলেও কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে বেশ সন্দেহ আছে। কারণ এর অতীত অভিজ্ঞতা তেমন ভাল নয়।এর আগে ২০১১-১২ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০ শতাংশ কর দিয়ে পুঁজিবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ২০১১-১২ অর্থবছরে মাত্র ৮২ জন ৩৮২ কোটি টাকা সাদা করেছিলেন। পরের বছর অর্থাৎ ২০১২-১৩ অর্থবছরে মাত্র ৭০ জন শেয়ার কিনে কালোটাকা সাদা করেছিলেন।ওই বছর সব মিলিয়ে ১৩০ কোটি টাকা সাদা হয়েছিল।