মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অধিকাংশ সূচকই ঋণাত্মক

অর্থনীতির নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়েও শক্তিশালী ধাক্কা দিয়েছে করোনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায় অধিকাংশ সূচকে ঋণাত্মক পবৃদ্ধি অর্জন করেছে মোবাইল ব্যাংকিং। ক্রমবর্ধমান খাতটির গতি হঠাৎ করেই রোধ করে দিয়েছে মরণঘাতী এই ভাইরাস। তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের তুলনায় জুন শেষে সার্বিক লেনদেন কমেছে ৯ ভাগ। প্রতিদিনের গড় লেনদেন কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। শুধু তাই নয়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিটেন্স সংগ্রহ, ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, ব্যক্তি-ব্যক্তি লেনদেন, সরকারি বেতন ভাতা প্রদানসহ অধিকাংশ সূচকই নিম্নমুখী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে মোট ২৫ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭২টি লেনদেনের মাধ্যমে ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যা এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ কম। মে মাসে মোট লেনদেন ছিল ৪৭ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪৯৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যা আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ কম। মে মাসে প্রতিদিন গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।

আলোচিত সময়ে এমএফএসে রেমিট্যান্স এসেছে ১২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ১৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। এটিও আগের মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ কম। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ করেছে দুই হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৯৯৩ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৮১১ কোটি টাকা। সরকারি পরিশোধ ৫৫৮ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত। ২০২০ সালের জুন শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৮৭ লাখ ৯৭ হাজার, যা তার আগের মাস মে’র চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমএফএস লেনদেনের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও ওষুধ ক্রয়ের কোনো ধরনের চার্জ না কাটার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যক্তি হতে ব্যক্তি (পি-টু-পি) লেনদেনে (যেকোনো চ্যানেলে) এ নির্দেশনা মানতে হবে। একই সঙ্গে লেনদেনসীমা ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ করা হয়েছে। এছাড়া দৈনিক এক হাজার টাকা ক্যাশ আউট সম্পূর্ণ চার্জবিহীন রাখতে বলা হয়েছে।

আগে যেখানে দিনে দুবারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ক্যাশইন করা যেত। এখন তা বাড়িয়ে দিনে পাঁচবার সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ক্যাশইন করা যাবে এবং মাসে ২৫ বারে করতে পারবে ২ লাখ টাকা। দিনে পাঁচবার সর্বোচ্চ ক্যাশআউট করা যাবে ২৫ হাজার টাকা এবং মাসে ২০ বার দেড় লাখ টাকা ক্যাশআউট করা যাবে। পাশাপাশি একজন গ্রাহক তার ব্যক্তি মোবাইল হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা স্থিতি রাখতে পারবেন।

অর্থসূচক/জেডএ/কেএসআর