বাচ্চার নিরাপত্তায় ২ মাস উপোষ থাকে মা অজগর
বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

বাচ্চার নিরাপত্তায় ২ মাস উপোস থাকে মা অজগর

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে বাচ্চা ফোটাল অজগর সাপ। ডিমগুলো থেকে একে একে বেরিয়ে এলো ২৯টি অজগরের বাচ্চা। গত ২৮ মে ৩১টি ডিম দেয় অজগরটি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল পর্যন্ত সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানাখ্যাত বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে ২৯টি বাচ্চা সাপ ডিম থেকে বেরিয়ে আসে। সাপ ভয়ঙ্কর হলেও সাপের এ বাচ্চাগুলো একত্রে দেখতে সুন্দর লাগে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব অজগরের ডিম পাড়া ও বাচ্চা ফোঁটার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রায় ৬০ দিন ডিমে তা দেওয়ার পর ডিম ফুটে ছানা বেরিয়ে আসে। মা অজগর বাচ্চার জন্য দুই মাস পর্যন্ত ডিমে তা দেয়। ডিম থেকে একটু সময়ের জন্যও সরে না। এই সময় সে ডিমগুলোকে এমনভাবে নিরাপত্তা দেয় যেন একটু পানি পর্যন্ত খায় না বা ফুরসত নেয় না। বাচ্চা ফোঁটার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সে ডিম থেকে নিচে নেমে আসে।

তিনি আরও জানান, মা অজগরটি গত দুই মাস ডিমগুলোকে মাঝখানে রেখে কুণ্ডলি পাকিয়ে ডিমে তা দিয়ে বসে ছিল। পাশেই পুরুষ অজগরটি সতর্ক দৃষ্টি নিয়ে পাহারায় নিযুক্ত থাকে।

সেবা ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ অজগরটির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। সেইসঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও দেখভাল করছেন।

২০০২ সালে এবং ২০০৪ সালের ১৩ মে ৩৮টি করে ডিম দেয় অজগরটি। সেসময়ও ৬০ দিন পর বাচ্চা ফুটেছিল ৩২টি। ২০১১ সালের মে মাসে অজগরটি ৩০টি ডিম দেয়। গত বছর ৯ জুন সাপটি ৩২টি ডিম দিয়েছে।

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব বলেন, বনে-জঙ্গলে থাকলে অজগর সাধারণত মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে ৫০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়। এরা গর্ত, গুহা বা পুরনো গাছের খোঁড়লে ডিম পাড়ে। ১৯৯৯ সালে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সীমান্তের দিনারপুর পাহাড়ের একটি লেবুর বাগান থেকে উদ্ধার করা হয় এই অজগর জুটি। তা দেওয়া সব ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে প্রায় দুদিন লাগে। সবগুলো ডিম ফোঁটার পরে এগুলোকে লাউয়াছড়া কিংবা সাতছড়ি অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ