রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুচিনি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুচিনি

দারুচিনিকে এতদিন আমরা খাবারে মশলা হিসেবে ব্যবহার করে এসেছি। মাংস রান্নায় গরম মশলা অপরিহার্য আর গরম মশলার অন্যতম মশলা এই দারুচিনি। খাবারের সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়াতে এই মশলা অতুলনীয়।

তবে এই দারুচিনি শুধু মশলা হিসেবে খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধই শুধু বাড়ায় না, এর বাইরে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এটি কাজ করে থাকে। প্রাচীনকালে বহু ভাইরাস ধ্বংস করে দেওয়ার নজির দেখিয়েছে এই দারুচিনি। তাই সুগন্ধি এই মশলাকে শুধু খাবারে নয়, গবেষকরা বলছেন করোনাকালেও প্রতিষেধক হিসেবে কাজে আসতে পারে দারুচিনি। তবে খাবারের সঠিক পদ্ধতিটি জানতে হবে। দারুচিনি কীভাবে মানুষের শরীর ভালো করার কাজ করেছে এইসব কিছু নিয়েই আসুন জেনে নিই।

দারুচিনির যত গুণ: বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও বিশ্বের বেশ কিছু দেশে প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে দারুচিনি। তবে এখন পর্যন্ত দারুচিনি করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে পারে কি না, সেই বিষয়ে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ডাক্তাররা বলছেন সংক্রমণের তীব্রতা প্রতিরোধ করতে পারে দারুচিনি।

দারুচিনি শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। প্রদাহে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আর সেটার পরিমাণই মূলত কমিয়ে দিতে পারে দারুচিনি। এই দারুচিনির মধ্যেই রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল ও প্রোঅ্যান্থোসায়ানাইডিন, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এছাড়াও দারুচিনি মেদ ঝরাতেও কাজে আসে। শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং হার্টের রোগ নির্মূল করতেও খুবই সহায়ক দারুচিনি। দারুচিনির অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রপার্টি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

ভারতের এক গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, দারুচিনির প্রোসায়ানাইডিন পলিমার এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তিদেরকে এইচআইভি কন্ট্রোলার্সে পরিণত করতে পারবে। গবেষকরা দারুচিনিতে যে মলিকিউল পেয়েছেন তা এইচআইভি ভাইরাসকে দমিয়ে রেখে ডিফেন্স প্রোটিনকে সুরক্ষা দিতে পারে। এছাড়াও সেই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দারুচিনির সিনামালডিহাইড শ্বাসতন্ত্রের রোগ অ্যাডিনোভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর।

জাপানের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সেলন দারুচিনির মধ্যে থাকা উপাদান সিনাজিলানিন বাকুলোভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাধা দিয়েছে। বাকুলোভাইরাস পোকামাকড়কে সংক্রমিত করে। এই উপাদান হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস-১ ও হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস-২ এর বিরুদ্ধে কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়াও এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী হার্বাল মেডিসিনের অন্যতম অনুষঙ্গ হল দারুচিনি। ডাক্তারেরা বলছেন, নিয়মিত দারুচিনি খেলে নিউমোনিয়া, শ্বাসনালির ফুলে ওঠা, কাশি, গলার কর্কশতা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধা কমাতে সাহায্য করে।

১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারী হয়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সেই সময় স্প্যানিশ ফ্লু নির্মূল করার অন্যতম সেরা ওষুধ ছিল দারুচিনির গুঁড়া। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এইচআইভি, অ্যাডিনোভাইরাস ও হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের বিরুদ্ধেও দারুচিনি ব্যাপক কার্যকারিতা দেখিয়েছে।

দারুচিনি খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি: দারুচিনিকে পানিতে সিদ্ধ করে অথবা গরম পানিতে দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পান করলে এর সঠিক উপকারিতা পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দারুচিনির তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। এর তেল এত বেশি শক্তিশালী যে এক বা দুই ফোঁটার বেশি খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। কোন খাবারে ঠিক কতটা পরিমাণ দারুচিনির তেল মিশিয়ে খেলে শরীরের কোন ক্ষতি হবে না, তা জানতে অতি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অর্থসূচক/এসএস/এমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ