লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার
সোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার

যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল তার দুই-তৃতীয়াংশ লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত যে কয়টি প্রকল্পে সাফল্য এসেছিল, মহামারি করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে সেগুলোতেও পতন দেখা দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

২০১৫ থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন ছিল সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ। ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কথা ছিল ২০২০ সাল নাগাদ স্বাক্ষরতার হার হবে শতভাগ। কিন্তু ২০১৮ সালের হিসাবে স্বাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও ২০১৯ সালের হিসাবে দারিদ্র্য রয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। অতি দারিদ্র্য ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ অতি দারিদ্র্য কমিয়ে ৮ দশমিক ৯ শতাংশে আনার লক্ষ্য ছিল সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়।

লক্ষ্য ছিল এই সময়ে দেশে প্রতি এক লাখে মাতৃমৃত্যুর হার নেমে আসবে ১০৫ জনে। কিন্তু সরকারি হিসাবে সামাজিক উন্নয়নের সূচকটি আছে লক্ষ্যের অনেক দূরে। ২০১৮ সালের হিসাবে মাতৃমৃত্যুর হার লাখে ১৬৯ জন। হিসাব বলছে, গেলো পাঁচ বছরে বিদ্যুৎখাতের উন্নতি হলেও সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এগোতে পারেনি। ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ হাজার মেগাওয়াট ধরা হলেও উৎপাদন হচ্ছে ২২ হাজার ৭৮৭ মেগাওয়াট। সারাদেশ বিদ্যুতের শতভাগ কভারেজের আওতায় আনলেও কমানো যায়নি বিদ্যুতের ব্যবহার। ২০১৯ সালের হিসাবে জনপ্রতি ৫১৪ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের লক্ষ্য থাকলেও ব্যবহার করছে ৫২০ কিলোওয়াট। টেলি ডেনসিটি ১০০ ভাগ অর্জন করার লক্ষ্য থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৯৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

লক্ষ্যের চেয়ে পিছিয়ে থাকার পেছনে তিনটি কারণ আছে বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রথমত, আমরা যথষ্ট বরাদ্দ দিই না। দ্বিতীয়ত, যেটা দেওয়া হয়, সেটার ব্যবহার করতে পারি না। তৃতীয়ত, ব্যবহার করতে পারলেও ফলাফল পাই না।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, সবমিলে আমাদের অবস্থা মোটেই হতাশাব্যঞ্জক না। যদিও করোনাকাল আমাদের কিছুটা হলেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

অগ্রগতিতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক সূচকগুলো। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের কথা ছিল। কিন্তু অর্জিত হয়েছে চার হাজার ৫৪ কোটি ডলার। প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলারের। এসেছে এক হাজার ৬৪০ কোটি ডলার। বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে ৩৮৯ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫৬ কোটি ডলার। বিনিয়োগ মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের ৩০ জুন শেষে হয়েছে ২০ দশমিক ৮০ শতাংশ।

২০২০ সালের ৩০ জুন শেষে জিডিপির অনুপাতে জাতীয় সঞ্চয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩২ শতাংশ। অর্জিত হয়েছে ২০ দশমিক ১৬ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ধরা হলেও ঘাটতি রয়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করে ২১ দশমিক ১ শতাংশ নেওয়ার কথা থাকলেও পৌঁছেছে ১৭ দশমিক ৯ শতাংশে। রাজস্ব আয় ১২ দশমিক ৫ শতাংশের ঘরে আনার কথা থাকলেও এখনও রয়ে গেছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে চাল উৎপাদনের লক্ষ্য তিন লাখ ৫০ হাজার টনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ২০২০ সালের ৩০ জুনের এক বছর আগেই। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশের ঘরেই। মাথাপিছু আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েছে ৭০ ডলার বেশি হয়েছে।

শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অর্জিত হলেও শেষ বছরে এসে করোনা ভাইরাসের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ নিচে নেমে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ, সেবাখাতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ ধরা হলেও চলতি বছরের ৩০ জুন শেষে অর্জিত হয়েছে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল। বছর শেষে অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু করোনা ভাইরাসের কারণে নয়, আমাদের যে ধরনের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশের কথা ছিল, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হওয়ার কথা ছিল, সক্ষমতা বৃদ্ধি হওয়ার কথা ছিল, এগুলোর অনেক কিছুই বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে সবগুলো সূচকের লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব হয়নি।

অর্থসূচক/এমআরএম/এএইচআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ