৫ বছরেই টাকার কুমির এনু-রুপন
বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page
৯১ অ্যাকাউন্টে লেনদেন ২০০ কোটি টাকা

পাঁচ বছরেই টাকার কুমির এনু-রুপন

ক্যাসিনোকাণ্ডের মামলায় গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রূপন ভূঁইয়াসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে করা চার মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শিগগিরই এই চার্জশিট দেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি (সিরিয়াস ক্রাইম) ইমতিয়াজ আহমেদ এ কথা জানান।

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এনামুল হক এনু ও তার ভাই রূপন ভূঁইয়াসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানি লন্ডারিং আইনের চার মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যেকোনো সময় আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হবে।

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে এনু-রূপনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে ৯১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৯ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। রাজধানীতে তাদের ২০টি বাড়ি, ১২৮টি ফ্ল্যাট ও ২৫ কাঠা জমির হিসাব পাওয়া গেছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সিন্দুক থেকে ২৬ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়।

এনু-রুপনের উত্থাপন সম্পর্কে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ক্যাসিনো ব্রাদার এনু-রুপনের উত্থাপন পারিবারিকভাবে। তাদের বাবা জুয়ারি ছিলেন। রাজধানীর সদরঘাটে তাদের জুয়ার আড্ডা ছিল। সেখানেই এনু-রুপনের পেশাদারি জুয়া কার্যক্রমের শুরু। ২০১৫ সাল থেকে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সেক্রেটারি জয় গোপালের হাত ধরেই তাদের ক্যাসিনো ব্যবসার উত্থান হয়।

সম্প্রতি জয় গোপালের গ্রেফতারের বিষয়ে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ক্যাসিনোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য আসার পর গত ৯ মাস আগেই আত্মগোপনে যান ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সেক্রেটারি জয় গোপাল। সম্প্রতি তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশা করছি জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাব।

এনু-রুপনের বিরুদ্ধে চলমান চারটি মানি লন্ডারিং মামলার তদন্ত শেষে এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার কথা উল্লেখ করে ডিআইজি বলেন, আমরা এনু-রুপনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানি লন্ডারিংয়ের মামলা তদন্ত করছি। গেন্ডারিয়া থানার মামলায় ১৬ জন, সুত্রাপুরের দুটি মামলায় ১৫ ও ১০ জন এবং ওয়ারির মামলায় ১১ জনের বিরুদ্ধে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। তবে আনুষঙ্গিক বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলবে। তদন্তে নতুন জড়িত কারো নাম আসলে তাদের বিরুদ্ধে সিআইডি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে।

এনু-রুপনের ক্যাসিনো থেকে প্রতি রাতে কী পরিমাণ আয় হতো জানতে চাইলে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, প্রতি রাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হতো। দেশের বাইরে তাদের সম্পদ পাচার করেছেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে যেটা মনে হয়েছে, ক্যাসিনোতে অর্জিত অর্থ তারা বাড়ি, ফ্ল্যাট, অলঙ্কারের পেছনে ব্যয় করেছেন।

২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের বাসায় এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখান থেকে পাঁচ কোটি টাকা এবং সাড়ে সাত কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুত্রাপুর ও গেণ্ডারিয়া থানায় তাদের নামে ছয়টি মামলা হয়।

পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এনু-রুপনের লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ টাকা, ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজ এবং এক কেজি স্বর্ণ জব্দ করে র‌্যাব। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের নামে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

অর্থসূচক/কেএসআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ